বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৯৩২ সালে অবিভক্ত ভারতে ‘টাটা এয়ারলাইনস’ চালু করেছিলেন শিল্পপতি জে আর ডি টাটা। সেই বছরের ১৭ অক্টোবর করাচি থেকে চিঠিপত্র নিয়ে বোম্বে হয়ে মাদ্রাজ উড়ে গিয়েছিলেন জে আর ডি টাটা স্বয়ং। সেই ঘটনার ছয় বছরের মধ্যেই আকাশে ওড়ে টাটা এয়ারলাইনসের প্রথম যাত্রীবাহী বিমান। তার কয়েক বছরের মধ্যেই নামবদল। টাটা এয়ারলাইনস হয়ে যায় ‘এয়ার ইন্ডিয়া’। মালিকানা পুরোটাই থাকে টাটাদের হাতে। এরপর নানা চড়াই–উতরাই পেরিয়ে সরকার নিয়ে নেয় টাটা গোষ্ঠী। এয়ার ইন্ডিয়া আবার ৬৮ বছর পর ফিরে এল টাটার হাতে।

গত শুক্রবার ১৮ হাজার কোটি রুপির বিনিময়ে টাটা গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয় রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান পরিবহন সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া’ ও ‘এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস’-এর শতভাগ এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া স্যাটস’-এর ৫০ শতাংশ মালিকানা।
১৯৫৩ সাল থেকে জে আর ডি টাটা এয়ার ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁকে ১৯৭৮ সালে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় চিঠি লিখে দুঃখ প্রকাশ করেন ইন্দিরা গান্ধী। হাতে লেখা চিঠিতে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, আপনার সঙ্গে সম্পর্কছেদ হওয়ায় এয়ার ইন্ডিয়ার সবাই অবশ্যই দুঃখিত হবে। আপনি কেবল চেয়ারম্যান নন, প্রতিষ্ঠাতাও। আপনি যত্নসহকারে সাজসজ্জাসহ এয়ার ইন্ডিয়াকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়েছিলেন আর তালিকার শীর্ষে তুলেছিলেন এই বিমান সংস্থাকে।

১৯৭৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটি থেকে কলকাতা যাওয়ার সময় বিমানে এই চিঠি লেখেন ইন্দিরা গান্ধী। ২৮ ফেব্রুয়ারি জে আর ডি টাটা ওই চিঠির উত্তর দিয়েছিলেন।

জে আর ডি টাটাকে ‘প্রিয় জে’ সম্বোধন করে চিঠিতে ‘ভুল–বোঝাবুঝি’ বলে মন্তব্য করেন। তবে এর কোনো বর্ণনা নেই চিঠিতে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কিছু ভুল–বোঝাবুঝি ছিল। আমাকে চাপের মধ্য কাজ করতে হয়েছিল। এটা নিয়ে (চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো) বিমান মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশনের মধ্যে রেষারেষি ছিল। এর বেশি বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি আর কিছু বলতে চাই না।’

‘প্রিয় ইন্দিরা’ বলে সম্বোধন করে জে আর ডি টাটা বলেছিল, ‘এয়ার ইন্ডিয়া থেকে সরকার তাঁকে সরানোর বিষয়ে তিনি (ইন্দিরা) যে কষ্ট পেয়েছেন, তা আমাকে স্পর্শ করেছে। এয়ারলাইন গড়তে আমি যা যা করেছি, সে সম্পর্কে আপনার ধারণায় আমি অভিভূত হয়েছি। আমি ভাগ্যবান ছিলাম। আমার সহকর্মী ও কর্মীদের আনুগত্য, উৎসাহ এবং সরকারের কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়েছি, তা ছিল অতুলনীয়। এসব ছাড়া আমি কোনো কিছুই অর্জন করতে পারতাম না। চিঠিটি শেষে জে আর ডি টাটা শেষ করেন ‘জে’ লিখে।’

default-image

এয়ার ইন্ডিয়ার স্বাধীন ভারতের চেয়েও পুরোনো সংস্থা। জে আর ডি টাটা পাইলটের লাইসেন্স পাওয়া প্রথম ভারতীয়। তিনি ১৯৩২ সালে করাচি এবং বোম্বাইয়ের (বর্তমান মুম্বাই) মধ্যে এয়ার মেইল পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি শিগগিরই পরিষেবার ব্যাপ্তি ঘটান ও ১৯৪৬ সালে নাম বদলে করেন ‘এয়ার ইন্ডিয়া’। ১৯৫৩ সালে টাটার হাত থেকে বিমান সংস্থা অধিগ্রহণ করে কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন জে আর ডি টাটা। ৭৮ সালে মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন জনতা পার্টি সরকার টাটাকে সরিয়ে দেয় চেয়ারম্যানের পদ থেকে। পরে ইন্দিরা গান্ধীর সরকার আবারও জে আর ডি টাটাকে এয়ার ইন্ডিয়ার বোর্ডে বসান।

মহারাজার ৭৫ বছর

এয়ার ইন্ডিয়া বিশ্বের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ বাড়াতেও দেশটির সংস্কৃতির দূত হিসেবেও কাজ করেছিল। বিমান সংস্থাটি দেশের প্রধান প্রধান শহরে অফিস খুলে বিদেশিদের আকৃষ্ট করে ভারতের শিল্প ও নান্দনিকতার ওপর ভিত্তি করে ব্র্যান্ড তৈরি করেছে। ভারতীয় শিল্পের অন্যতম বড় সংগ্রাহক হয়ে উঠেছে এয়ার ইন্ডিয়া। এয়ার ইন্ডিয়ার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমএফ হুসেইন, ভিএস গাইতোন্ডে, অঞ্জলি এলা মেননের মতো বিখ্যাত শিল্পীদের নাম। অনন্য ব্র্যান্ড তৈরির চেষ্টায় এয়ার ইন্ডিয়া সালভাদর ঢালিকে একটি ছাইদানি (অ্যাশট্রে) নকশা করাতেও রাজি করান। প্রায় ২৫০টি প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল সেই নকশা করা অ্যাশট্রে। এত কিছুর পর এয়ার ইন্ডিয়ার ‘মহারাজা’ ম্যাসকটের চেয়ে কোনোও কিছুই বেশি করে তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানেনি।

default-image

এয়ার ইন্ডিয়ার বাণিজ্যিক পরিচালক ববি কুকার কল্পনা এবং শিল্পী উমেশ রাওয়ের সহযোগিতায় ‘মহারাজা’ ম্যাসকট ১৯৪৬ সালে প্রথম আবির্ভূত হয়। ভারতীয় আতিথেয়তার প্রতীক হয়ে ওঠে ম্যাসকটটি। ২০২১ সালে ৭৫ বছর পূর্ণ হয়েছে মহারাজার।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন