ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের চুরি হয়ে যাওয়া নথির মধ্যে এ পর্যন্ত কিছু উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ভারতের জাতীয় গ্যাসক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য, তেলমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নৃপেন্দ্র মিশ্রের লেখা চিঠি, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তিসহ কয়েকটি আন্তদেশীয় জ্বালানি চুক্তির দলিল। খবর রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
চুরি হওয়া নথিগুলো ৫ থেকে ১০ হাজার রুপিতে বিক্রি হয়। তবে নথি পেতে বেশি জটিলতা দেখা দিলে এর চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করা হয়েছিল।
গোপন নথি ফাঁসের ঘটনায় গতকাল রোববার পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন সরকারি কর্মচারী, বড় কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী এবং সাবেক সাংবাদিক।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের গোপন নথি চুরি করে পরামর্শক ও বিভিন্ন করপোরেট কোম্পানির কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে যুক্ত থাকার অভিযোগে ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এসার, কেয়ার্ন ইন্ডিয়া, জুবিলিয়ান্ট এনার্জি ও রিলায়েন্স পাওয়ারের পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রবীন্দ্র যাদব। তাঁদের তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সাংবাদিক শান্তনু সাইকিয়া গত শনিবার দাবি করেন, তিনি প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপির একটি কেলেঙ্কারির বিষয়ে অনুসন্ধান করছিলেন। সেটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাদাপোশাকের পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় সাইকিয়া সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন। সাইকিয়া এখন তেল, জ্বালানি ও সার বিষয়ে একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করেন।
ওই ১২ জনের বাইরেও একজন যুগ্ম সচিব নথি চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান টাইমস নাউ টেলিভিশনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয়, এসব নথি মন্ত্রণালয় থেকে চুরি হয়েছে মধ্যরাতে। এ ঘটনা হয়তো বেশ কয়েক বছর ধরেই ঘটে চলেছে।
গত বছর নথিপত্র চুরি রোধ করতে ভারতের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিরাপত্তা ক্যামেরা বসানো শুরু হয়। এরপর এই প্রথম চুরির ঘটনা ধরা পড়ল।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। এর সঙ্গে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে।’
এই নথি চুরির ঘটনাকে দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার উদাহরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব টি এস আর সুব্রাহ্মনিয়াম। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা বা পেট্রোলিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে নথি ব্যবস্থাপনা এবং লোকজনের ওপর নজরদারি রাখতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন