default-image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, দেশে যাঁদের প্রয়োজন তাঁদের প্রত্যেককে যত দ্রুত সম্ভব টিকা দেওয়া হোক। একই সঙ্গে বন্ধ রাখা হোক টিকা রপ্তানি। শুক্রবার এক চিঠিতে এই আরজি জানিয়ে রাহুল লেখেন, বর্তমানে যে হারে টিকা দেওয়া চলছে, তা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। ৭৫ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে লেগে যাবে কয়েকটা মূল্যবান বছর।

প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে তাঁকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি রাহুল। চিঠিতে লেখেন, ‘একজনের ছবি সাঁটা টিকার সার্টিফিকেট দেওয়া থেকে বের হয়ে টিকাকরণের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেখতে হবে যাতে কম সময়ের মধ্যে অধিকাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া যায়।’ তিনি এ কথাও বলেন, টিকাকরণ কিছুতেই উৎসবের পর্যায়ে পড়ে না।

ভারতে টিকা গ্রহণের সার্টিফিকেটে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সাঁটা রয়েছে। ভোটের আগে এ নিয়ে আপত্তি উঠলে যে যে রাজ্যে ভোটপর্ব চলছে, সেখানে সার্টিফিকেটে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না রাখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে টিকাকরণ নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে ১১ থেকে ১৪ এপ্রিল—এই চার দিন দেশে ‘টিকা উৎসব’ পালন করতে বলেন। উদ্দেশ্য, যাতে বেশিসংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়া যায়। ওই বার্তার পরেই শুক্রবার রাহুল তাঁকে চিঠি লেখেন। বলেন, টিকার সংকট পরিস্থিতি গুরুতর করে তুলেছে। এটা উৎসব হতে পারে না। দেশের মানুষকে বিপদে ফেলে টিকা রপ্তানি করাও উচিত নয়। দেশের মানুষকে অভাবে রেখে ইতিমধ্যে ৬ কোটি টিকা রপ্তানি করা হয়েছে। রাহুল লেখেন, টিকার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বেরও কোনো স্থান থাকতে পারে না। মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, দিল্লিসহ বিভিন্ন অবিজেপি রাজ্য টিকার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছে।

বিজ্ঞাপন

রাহুল তাঁর চিঠিতে মোট ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন। যেমন, টিকা রপ্তানি স্থগিত রাখা, যাঁদের প্রয়োজন তাঁদের প্রত্যেককে দ্রুত টিকা দেওয়া, টিকা প্রস্তুতকারকদের উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে অর্থ সাহায্য করা। টিকা সংগ্রহের জন্য বাজেটে বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি রুপির জোগানের ব্যবস্থা করার দাবিও তিনি জানান। সেই সঙ্গে বলেন, অন্য টিকা প্রস্তুতকারকদের প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া উচিত, যাতে বহু মানুষ টিকা নিতে পারেন। এ ছাড়া টিকা সংগ্রহ ও বিতরণসংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারদের আরও ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি লেখেন, জনস্বাস্থ্য রাজ্যের অধিকার। অথচ শুরু থেকেই এ বিষয়ে রাজ্য সরকারদের কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কেন্দ্র আড়ালে রেখেছে । রাহুল বলেন, ভারত সাফল্যের সঙ্গে বহু টিকাকরণ প্রকল্প সার্থক করে তুলেছে। অভিজ্ঞতাও প্রচুর। অথচ এবার তিন মাসেও দেশের ১ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া যায়নি!

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন