বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে টুইটার আজ বৃহস্পতিবার বলেছে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের নতুন বিধিনিষেধ জারি সম্পর্কে তারা অবহিত। নতুন এই নির্দেশ কার্যকর করার বিষয়টি আরও তিন মাস পিছিয়ে দিতে তারা কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছে। যদিও তারা এ কথা বলতে ছাড়েনি যে নতুন এই কড়াকড়ির সঙ্গে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি সামঞ্জস্যহীন।

নতুন ডিজিটাল বিধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটা টানাপোড়েন চলছে। দেশের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের দোহাই দিয়ে সরকার এই মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে বলে অভিযোগ। সে কারণে গত বুধবার থেকে সারা দেশে নতুন বিধি জারি করা হয়েছে। নতুন এই বিধিতে বলা হয়েছে, নিয়ম না মানলে সংস্থার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বিরুদ্ধে বুধবারই দিল্লি হাইকোর্টে হোয়াটসঅ্যাপ মামলা করে।

সরকার অবশ্য বিবৃতি দিয়ে বলেছে, বাকস্বাধীনতা খর্ব করার কোনো অভিপ্রায় তাদের নেই। কারও কোনো মৌলিক অধিকারেও সরকার হস্তক্ষেপ করছে না। সরকার শুধু তাদের সম্পর্কেই তথ্য জানতে আগ্রহী, যারা ইন্টারনেটে দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার বিরোধিতা করবে, ঘৃণা ছড়াবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, কোনো স্বাধীনতাই নিরঙ্কুশ বা চূড়ান্ত হতে পারে না। কোনো দেশে বাণিজ্য করতে হলে সে দেশের নিয়ম মানতে হবে।

ইন্টারনেট ব্যবহার করে রাজনৈতিক ‘অপপ্রচার’ নিয়ে ভারতে বেশ কিছুদিন ধরেই সরকার ও বিরোধীপক্ষের মধ্যে বিবাদ চলছে। সম্প্রতি টুইটারে একটি প্রচারকে কেন্দ্র করে শাসক দল বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বিবাদ শুরু হয়।

টুইটার বিজেপি মুখপাত্রের একটি পোস্টকে ‘কারসাজি’ বলে ট্যাগ করে। মুখপাত্রের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দেয় কংগ্রেস। তারপরই সেই অভিযোগের তদন্তে দিল্লি পুলিশ টুইটারের কার্যালয়ে হানা দেয়। তল্লাশির সেই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে টুইটার প্রতিক্রিয়া দেয়। তারা বলে, কর্মীদের সুরক্ষা ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

নতুন বিধি নিয়ে বুধবার নীরবতা ভেঙেছিল হোয়াটসঅ্যাপ। বৃহস্পতিবার ভাঙল টুইটার। তারা বলেছে, নতুন বিধি গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন