বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাদক–কাণ্ড

মুম্বাই থেকে গোয়াগামী একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরি থেকে আরিয়ানকে আটক করে ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি)। আরিয়ানের সঙ্গে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে অবৈধ মাদক বহন, সেবন ও বেচাকেনাসংক্রান্ত আইনের মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখায় এনসিবি। আদালতের মাধ্যমে আরিয়ানকে ৭ অক্টোবর (আজ) পর্যন্ত রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পায় এনসিবি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আরিয়ানকে গ্রেপ্তারের নথিপত্রের আলোকে বলা যায়, তাঁর কাছে যে পরিমাণ মাদক পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনো কারণ ছিল না।

আরিয়ানের আইনজীবী সতীশ মানশিণ্ডে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ জোরালোভাবে আদালতে অস্বীকার করেন। গত রোববার আরিয়ানের জামিন শুনানিতে তিনি আদালতকে বলেন, প্রমোদতরিতে ওঠার সময় আরিয়ানকে দুবার তল্লাশি করা হয়। কিন্তু তখন তাঁর কাছে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। তাঁর মাদক সেবনের কোনো প্রমাণও নেই।

গাড়িচাপা-কাণ্ড

উত্তর প্রদেশের লাখিমপুর খেরিতে রোববার কৃষকেরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। বিক্ষোভরত কৃষকদের ওপর আশিসের বহরে থাকা গাড়ি তুলে দিয়ে চারজনকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার জেরে সহিংসতায় আরও চারজন নিহত হন।

কৃষকেরা বলেন, ঘটনার সময় আশিস গাড়িতেই ছিলেন। তবে তাঁর দাবি, তিনি ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না। তাঁর বাবা অজয়ও একই দাবি করেন।

ভারতের বিরোধী দল ও কৃষক ইউনিয়নের দাবির মুখে সোমবার উত্তর প্রদেশের পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এ-সংক্রান্ত মামলায় অজয় ও তাঁর ছেলে আশিসের নাম আছে।

উত্তর প্রদেশের সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বিক্রম সিং বলেন, ঘটনার পর অভিযোগ করতে রাজ্য পুলিশের অনীহা ও বিলম্বের বিষয়টি অমার্জনীয়।

বিক্রম সিং বলেন, লাখিমপুরের ঘটনাটি অনেক বেশি মারাত্মক। কারণ, সেখানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দেখা গেল এ ঘটনার চেয়ে শাহরুখপুত্রের গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

গণমাধ্যম দুই ঘটনার প্রচার রোববার সারা দিন ভারতের কিছু টিভি চ্যানেল আরিয়ান ও তাঁর পরিবারের কঠিন পরিস্থিতি প্রদর্শন করে। সংবাদকর্মীরা আরিয়ানের নানা মুহূর্তের ছবি-ভিডিও ধারণ করছিলেন। পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, এমন দৃশ্য বারবার টিভিতে দেখানো হচ্ছিল। এমনকি তাঁকে গ্রেপ্তারের নথি পর্যন্ত টিভিতে বারবার দেখানো হচ্ছিল। এসব ছবি-ভিডিও আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়।

আরিয়ানের গ্রেপ্তারকে একজন উপস্থাপক বড় ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করেন। আরেকজন উপস্থাপক দাবি করেন যে বলিউড ও মাদকের মধ্যকার সম্পর্ক বন্ধ করা হোক। এসব টিভি চ্যানেলে সেদিন অতিথি হিসেবে আসা ব্যক্তিরা শাহরুখপুত্র সম্পর্কে প্রমাণিত নয়, এমন সব অভিযোগ করেন। তাঁরা শাহরুখ ও তাঁর স্ত্রীর অভিভাবকত্ব নিয়ে সমালোচনা মুখর ছিলেন।

কিন্তু লাখিমপুরের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর অজয় ও তাঁর ছেলে আশিসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয়নি। এ নিয়ে টিভি চ্যানেলের প্রচারও ছিল অনেক কম।

টিভি চ্যানেলের তারকা উপস্থাপকেরা অজয় ও আশিসকে গ্রেপ্তার করার দাবি থেকে বিরত থাকেন। কেউ কেউ উল্টো লাখিমপুরে সহিংস ঘটনার দায় কৃষকদের ওপর চাপান। এ কৃষকেরা বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রায় এক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন।

তারকাপুত্র বনাম মন্ত্রীপুত্র

সাবেক সাংবাদিক জন থমাস বলেন, গণমাধ্যমে মাদক জব্দের ঘটনার প্রচার ছিল সবচেয়ে বেশি। তারকাপুত্রের তারকামূল্য গণমাধ্যমের প্রচারকে প্রভাবিত করে। দর্শক-শ্রোতা-পাঠকদের অনুমিত আগ্রহের বিষয়টিও টিভি চ্যানেল বা সংবাদপত্রের প্রচারকে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে অজয়ের ছেলে আশিস সারা দেশে তেমন পরিচিত কোনো ব্যক্তি নন, ঠিক যেমনটা তাঁর বাবা। তিনি মোদি সরকারের একজন কনিষ্ঠ মন্ত্রী মাত্র। তাঁকে কত লোক আর চেনেন?

এখানে গণমাধ্যমের একটা গোপন অ্যাজেন্ডা কাজ করছে বলে মনে করেন বিক্রম সিং। যেমনটা দেখা গিয়েছিল গত বছর সুশান্ত সিং রাজপুতের লাশ উদ্ধারের ঘটনার পর। সুশান্ত সিং রাজপুতের লাশ উদ্ধারের পর আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে তাঁর বান্ধবী ও অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর নাম।

বিক্রম সিং আরও বলেন, মাদক গ্রহণের বিষয়টি একটি মানবিক ট্র্যাজেডি। এ ব্যাপারে সবার সংবেদনশীলতা দেখানো উচিত।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন