default-image

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ভোটগুরু’ হিসেবে পরিচিত প্রশান্ত কিশোর। পশ্চিমবঙ্গে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে সাফল্য এনে দিতে কাজ করছেন তিনি। এই লক্ষ্যে তিনি নিত্যনতুন কর্মসূচি ঘোষণা করছেন। নিচ্ছেন নানান কৌশল। তাঁর নতুন কৌশলের নিশানায় এবার বাম বিধায়কেরা।

প্রশান্ত কিশোরকে গত বছর মোটা অঙ্কের অর্থের চুক্তিতে নিয়োগ করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চুক্তির পর ভোটগুরু তাঁর দলবল ও সংস্থা নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন। কিন্তু করোনা ও আম্পানের কারণে প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) কর্মসূচি অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়ে। তা ছাড়া করোনা ও আম্পান ব্যবস্থাপনায় অবহেলা, অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল জেরবার হয়।

ফলে ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরকে তৃণমূলের জন্য নতুন করে কৌশল সাজাতে হয়।

বিজ্ঞাপন

পিকে মাঠে নেমে বুঝতে পারেন, তৃণমূল কংগ্রেসে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতার অভাব রয়েছে। যাঁরা নেতৃত্বে রয়েছেন, তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এরপরই মমতার দল পিকেকে নির্দেশনা দেয়, স্বচ্ছ ও আদর্শবাদী নেতা দলে ভেড়াতে হবে। তিনি বা তাঁরা যে দলের হোক না কেন, সেটা কোনো বিষয় নয়। এই নির্দেশনা পাওয়ার পর পিকে বিশেষ করে বাম বিধায়ক, সাবেক সাংসদ ও নেতাদের টার্গেট করেন। পিকের ভাবনা—এঁদের যদি তৃণমূলে নিয়ে আসা যায়, তবে আগামী বছরের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ভালো ফল করবে। যদিও পিকে মনে করেন, রাজ্যে তৃণমূলকে পরাস্ত করার মতো এখনো কোনো দল তৈরি হয়নি। তাই মমতাই তৃতীয়বারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ইতিমধ্যে পিকে বাম বিধায়কদের একটি তালিকা তৈরি করে তাঁদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তাঁদের নানান টোপ দেওয়া হচ্ছে।

জানা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গের বেশ কজন বাম বিধায়ককে তৃণমূলে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল পায় ২২১ টি। বামদল পেয়েছিল ৩২ আসন। কংগ্রেস ৪৪টি ও বিজেপি ৩টি আসন পেয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার ২৯৪টি আসনে আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে জয় সুনিশ্চিত করতে মরিয়া তৃণমূল।

গত বছরের লোকসভা নির্বাচনে মমতার দলের ভরাডুবি হয়। এরপর মমতা গত বছরের জুলাইয়ে নিয়োগ করেন ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরকে। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তৃণমূলের ৫০০ কোটি রুপির চুক্তি হয়েছে।

২০১৬ সালে মমতার সঙ্গে ভোটগুরুর কথা হয়েছিল। কিন্তু তখন তিনি ভোটগুরুর সংস্থার সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাননি। গত বছর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ব্যাপক পরাজয়, বিজেপির উত্থান রোধ এবং ২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে পরে মমতা শরণাপন্ন হন প্রশান্ত কিশোরের।

বিজ্ঞাপন

প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার নাম ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি। মমতার সঙ্গে চুক্তির পর গত বছরের জুলাই মাস থেকে তারা পশ্চিমবঙ্গে কাজ শুরু করে।

বলা হয়ে থাকে, প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ২০১২ সালে গুজরাট নির্বাচনে দায়িত্বে থেকে তৃতীয়বারের জন্য সেখানকার ক্ষমতায় মোদিকে আনে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদিকে জেতানোর জন্য প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা ছিল। ২০১৫ সালে বিহারে নীতিশ-লালু প্রসাদ জোটকে ক্ষমতায় আনার কারিগর ছিল পিকের সংস্থা।

২০১৭ সালে ১০ বছর পর কংগ্রেসকে পাঞ্জাবের ক্ষমতায় আনে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা। গত বছর অন্ধ্র প্রদেশের লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের নেতা জগনমোহন রেড্ডিকে সাফল্য এনে দেন প্রশান্ত।

মন্তব্য পড়ুন 0