default-image

জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারযুদ্ধ। নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে চলতি বছরে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী নতুন দিল্লিতে বঙ্গ বিজেপি কমিটির বৈঠক বসে। সেখানেই আলোচনা হয় আসন্ন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন ও প্রধানমন্ত্রী মোদির পশ্চিম বাংলা সফর নিয়ে।

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি আগামী রোববার পশ্চিমবঙ্গের শিল্প শহর হলদিয়ায় আসছেন। সেখানে তিনি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দুটি সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর হলদিয়ায় আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত থাকবেন। সেখানেই তিনি এই রাজ্যের আসন্ন বিধানসভার নির্বাচন নিয়ে কথা বলবেন।

আগামী এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের নির্বাচন হওয়ার কথা। এই নির্বাচন সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে রাজ্যের দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক দল তৃণমূল ও বিজেপি।

বিজ্ঞাপন

দুদলই এখন চষে বেড়াচ্ছে রাজ্যের গোটা রাজনৈতিক ময়দান। দুদলই ঘোষণা দিয়েছে তারাই এবার ক্ষমতায় যাচ্ছে।

এদিকে এই নির্বাচন ঘিরে রাজ্যজুড়ে অব্যাহত রয়েছে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের পালা। এই যোগদান মেলায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করা দুই মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ।

গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বারইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান ময়দানে বিজেপি আয়োজিত যোগদান মেলায় ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল বিধায়ক দীপক হালদারসহ ১৩৫ জন নেতা, জনপ্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে, এর মধ্যে ১০৫ জন তৃণমূলের। বাকিরা অন্যান্য দলের। এঁদের সামনেই এই নব জনপ্রতিনিধিরা যোগ দেন বিজেপিতে।

শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় যোগদান অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে পদ্মপুকুর এলাকায় কালো পতাকা দেখিয়ে তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকেরা তাঁদের উদ্দেশে ’বিশ্বাসঘাতক’ বলে স্লোগান তোলেন। এসব প্রতিবাদ উপেক্ষা করে জনসভায় যোগ দেন তাঁরা।

সেই সমাবেশে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওরা হতাশ হয়ে গেছে। তাইতো ওরা আমার পোস্টারে জুতার মালা পরায়। আমি ওদের বলব, তোমরা আমাকে যত জুতার মালা পরাবে, মানুষ ততই বিজেপির গলায় ফুলের মালা পরাবে।’

রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করায় বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে রাজীবের পোস্টারে জুতোর মালা পরানোর অভিযোগ পাওয়া যায় ।

অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘এবার আর মুসলিম ভোটও পাবেন না দিদি। মুসলিম ভোট পাবে বিজেপি।’

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে ওরা দেউলিয়া হয়ে গেছে। মানুষ ওদের ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তাইতো এখন ওদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিরোধী দলের নেতাদের কালো পতাকা দেখানো।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসছেন ১১ ফেব্রুয়ারি।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন