default-image

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিস্তর সমালোচনার মুখে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দেড় ঘণ্টার মাথায় পদত্যাগ করেছেন ভারতের বিহার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মেওয়ালাল চৌধুরী।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিহারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে মেওয়ালাল শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দেড় ঘণ্টার মাথায় তিনি নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গের পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহার বিধানসভায় সম্প্রতি নির্বাচন হয়। নির্বাচনে জয়ী বিজেপি ও জেডিইউ জোট বিহারে সরকার গঠন করে। গত সোমবার নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার ১৪ সদস্য শপথ নেন।

বিজ্ঞাপন

শপথ গ্রহণের পরপরই অভিযোগ ওঠে, মন্ত্রিসভার আটজন সদস্যের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও দুর্নীতির ফৌজদারি মামলা আছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া মেওয়ালালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ তোলা হয়। বিরোধী দল আরজেডি তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করে।

দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগের দাবির মধ্যেই গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় বিহারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে মেওয়ালাল শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপরই তাঁর কাছে অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের বার্তা চলে আসে।

বেলা দুইটার দিকে মেওয়ালাল ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের বাড়িতে। সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র তুলে দেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে রাজ্যপালও পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

নিতীশ কুমারের জনতা দল (সংযুক্ত) বা জেডিইউর বিধায়ক মেওয়ালাল।

২০১৭ সালে মেওয়ালাল বিহারের ভাগলপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে ১৬১ জন সহকারী অধ্যাপক ও জুনিয়র বিজ্ঞানী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তিনি নিতীশের দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগের ঘটনায় তখন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেন নিতীশ কুমার।

পরে মেওয়ালাল দুর্নীতি করেননি দাবি করে দলীয় শাস্তি থেকে রেহাই পান। পরে তাঁকে বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়ন দেন নিতীশ কুমার।

মেওয়ালালের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঝড়ের ঝাপটা গিয়ে পড়ে নিতীশ কুমারের ওপর। অবশেষে তাঁর নির্দেশে মেওয়ালাল পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বিজ্ঞাপন

মেওয়ালালকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পর বিহারের প্রধান বিরোধী দল আরজেডির নেতা লালুপ্রসাদের পুত্র তেজস্বী যাদব টুইটারে লেখেন, ‘তবে কি মন্ত্রীর পদ দিয়ে অবাধে দুর্নীতি চালিয়ে যাওয়ার লাইসেন্স দেওয়া হলো মেওয়ালালকে?’

বিহারের নতুন মন্ত্রিসভার ১৪ সদস্যের মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, খুন, অপহরণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

ভারতের অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফরমস ও ইলেকশন ওয়াচ যৌথ সমীক্ষা চালিয়ে গত বুধবার এক প্রতিবেদনে বলে, ১৪ মন্ত্রীর মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে এখনো ঝুলছে ফৌজদারি মামলা। মেওয়ালালসহ ১৪ মন্ত্রীর মধ্যে ১৩ জনই কোটিপতি।

তাঁদের সম্পত্তির গড় ৩ কোটি ৯৩ লাখ রুপি। শুধু মেওয়ালালের সম্পত্তির পরিমাণ ১২ কোটি ৩১ লাখ রুপি। তাঁর বিরুদ্ধে ঝুলছে চারটি ফৌজদারি মামলা।

মন্তব্য পড়ুন 0