বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে ২৯ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীতে নৈশকালীন কারফিউ চলছে। এরই মধ্যে দিল্লির বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (ডিডিএমএ) প্রস্তাব অনুযায়ী শনি ও রোববারের এই কারফিউ জারি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভাগ ছাড়া সরকারি সব অফিসে বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি অফিসকেও বলা হয়েছে ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করাতে। অত্যাবশ্যকীয় কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কারফিউয়ের আওতার বাইরে থাকবেন।

নৈশকালীন ও সাপ্তাহান্তিক কারফিউ, বাড়ি থেকে কাজের সুবিধা, বাজার ও বিনোদন কেন্দ্রে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞার দরুন মানুষের ভিড় অনেকটাই কমবে বলে ধারণা। এই কারণে বাস বা মেট্রোয় যাত্রী নিয়ন্ত্রণ করা হবে না। দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া ডিডিএমএর সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মঙ্গলবার বলেন, ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চালানো কঠিন। সিদ্ধান্ত মানাও সব সময় অসম্ভব। তা ছাড়া গণপরিবহনের সংখ্যা কমলে রাস্তায় ভিড় বাড়ে। তাতে বাড়ে সংক্রমণ। তাই শতভাগ যাত্রী নিয়েই গণপরিবহন চালানো হবে। তবে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

সারা ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ ও অমিক্রনের যা প্রভাব, তার বেশির ভাগ মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রের আশঙ্কা, এই হারে চলতে থাকলে ৮ জানুয়ারির মধ্যে দিল্লিতে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়াবে ৮ থেকে ৯ হাজার, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে তা ২০-২৫ হাজারে গিয়ে ঠেকবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লির সব হাসপাতালে কোভিড শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। গত তিন দিনে পঞ্চাশের বেশি নতুন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি নির্দেশে বাতিল করা হয়েছে চিকিৎসাকর্মীদের ছুটি।

দিল্লিতে এখনো কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। সংক্রমণের হার পরপর দুই দিন ৫ শতাংশের ওপরে থাকলে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়। চূড়ান্ত সতর্কতা বা লাল সংকেত জারির আগে ডিডিএমএ সাপ্তাহান্তিক কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে লকডাউন অবশ্যম্ভাবী বলে সরকারি সূত্রের মত।

মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তর প্রদেশসহ বহু রাজ্য কোভিডের মোকাবিলায় নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও নির্বাচনী জনসভার ওপর কোনো রকম বিধিনিষেধ আরোপিত হয়নি। এর ফলে যে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভার ভোট আসন্ন, সেখানে জনসভা বা রোড শো অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৫ জানুয়ারি) পাঞ্জাবে এক জনসভায় উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা। ভোটমুখী রাজ্যগুলোতে ভোটের দিন ঘোষণা না হওয়ায় নির্বাচন কমিশনও জনসভা নিয়ে কোনো নির্দেশ দেয়নি।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন