default-image

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে চমকপ্রদ সাফল্য দিয়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। অবশ্য দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সুবাদে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়ে যান তার বেশ আগেই।
২০১৩ সালের দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে কেজরিওয়ালের সদ্য গঠিত আম আদমি পার্টি (এএপি) ৭০টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে জয় পায়। সে চমকপ্রদ সাফল্য সাবেক সরকারি কর্মকর্তা কেজরিওয়ালকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসালেও লোকপাল বিল নিয়ে বিরোধের জেরে ৪৯ কর্মদিবস পরই তিনি পদত্যাগ করেন। মাঝে অনেক চড়াই-উতরাই গেছে। তবে লক্ষ্যে অবিচল সেই কেজরিওয়াল ফিরে এলেন প্রবল প্রতাপে।
রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে নবাগত হলেও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নতুন নন কেজরিওয়াল। দুর্নীতির বিরুদ্ধেও প্রচারণা চালাচ্ছিলেন বেশ কয়েক বছর ধরে। এ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০০৬ সালেই পেয়েছিলেন এশিয়ার নোবেল খ্যাত র্যামন ম্যাগসাইসাই উদীয়মান নেতার পুরস্কার। এর কয়েক বছরের মাথায় প্রবীণ গান্ধীবাদী আন্না হাজারের সঙ্গে মিলে দুর্নীতিমুক্ত ভারত গড়ার আন্দোলনে নামেন। তবে মতান্তরের জেরে ২০১২ সালে ‘টিম আন্না’ থেকে বের হয়ে যান কেজরিওয়াল। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। সে বছরেরই ২ অক্টোবর কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক দল আম আদমি পার্টির যাত্রা শুরু হয়।

২০১৪ সালের মে মাসে হঠাৎ করেই কেজরিওয়াল লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দেন। ওই নির্বাচনে ৪০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, এএপি কমপক্ষে ১০০টি আসন পাবে। তবে দলটি ফল বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। মাত্র চারটি আসনে জেতে এএপি। আর বারানসি আসনে তিন লাখের বেশি ভোটে কেজরিওয়ালকে হারিয়ে দেন মোদি।
এরপর কেটেছে মাত্র নয়টি মাস। এরই মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়ে দিল্লি পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হন কেজরিওয়াল। সুলভে পানি-বিদ্যুৎ সরবরাহ, দরিদ্রদের আবাসন, নারীদের নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়াসহ দিল্লির সামগ্রিক উন্নয়নে আরও সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করেন এবারের নির্বাচনী প্রচারণায়। সমর্থকেরা বলছেন, বিধানসভার গত শনিবারের নির্বাচনে অবিশ্বাস্য জয়ের কারণ সেটাই। দিল্লিবাসী আরও একবার আস্থা স্থাপন করেছে তাঁর ওপর। কেজরিওয়ালের দাবি, ভোটাররা জাতপাত আর ধর্মের রাজনীতির জন্যও প্রত্যাখ্যান করেছে বিজেপিকে।
১৯৬৮ সালে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য হরিয়ানার হিসার শহরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম কেজরিওয়ালের। খড়গপুরের খ্যাতনামা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) থেকে স্নাতক হন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টাটা গ্রুপে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি ১৯৯২ সালে আয়কর কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তথ্য অধিকার আন্দোলনের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা আনার ব্যাপারে পুরোদমে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে স্বেচ্ছায় অবসর নেন কেজরিওয়াল।
একটি বহুল প্রচারিত সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতির শিকার হওয়ার বড় কোনো ঘটনা কেজরিওয়ালের জীবনে ঘটেনি। এতে বলা হয়, জ্যেষ্ঠ আমলা থেকে কেজরিওয়াল সমাজকর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ব্যক্তিগত কোনো তিক্ততা বা ক্রোধ থেকে নয়। বরং এক দশক ধরে চাকরি করার সময় সরকারি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হওয়াই এর কারণ। সূত্র: বিবিসি

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন