বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল শনিবার বায়ু দূষণসংক্রান্ত এক মামলার শুনানির সময় বিচারপতি এন ভি রামানা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উদ্দেশে বলেন, অবিলম্বে কিছু একটা করতেই হবে, যাতে দু-তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। সরকার কী করবে, তা সোমবারের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘অবস্থা এতটাই খারাপ যে বাড়িতেও আমরা নাক-মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য হচ্ছি।’

প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল।

প্রধান বিচারপতির এমন নির্দেশের পর দূষণ মোকাবিলায় সোমবার থেকে দিল্লির সব স্কুল এক সপ্তাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সময় সব সরকারি অফিসও বন্ধ থাকবে। কাজ হবে বাড়ি থেকে। বেসরকারি অফিসগুলোকেও একইভাবে কার্যক্রম চালাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পক্ষ থেকে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়েছে গতকাল।

এর আগে বিধিনিষেধের ভাবনা প্রস্তাব আকারে উত্থাপন করে প্রধান বিচারপতি বলেন, দূষণ কমানোর দায় কেন্দ্র নাকি রাজ্যের—এইভাবে দেখলে চলবে না। কৃষকদের ঘাড়ে দোষ চাপালেও চলবে না। উত্তর ভারতের কৃষকেরা খেতে ফসলের গোড়া জ্বালিয়ে যতটুকু দূষণ করছেন, তা সামান্যই। সরকার কী করছে? এই ভয়ংকর পরিস্থিতির মোকাবিলা কীভাবে করতে চাইছে? দিন দুয়েকের জন্য বিধিনিষেধ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে কি? তিনি বলেন, যা করা দরকার, তা দ্রুত করতে হবে।

বায়ু দূষণের মান সূচক শুক্রবার ৫০০-এর নিচে থাকলেও শনিবার ৫৫০ পেরিয়ে যায়। এই মান সূচক ৫০ পর্যন্ত থাকলে ‘ভালো’ বলে গণ্য হয়। ২০০ পর্যন্ত ‘মোটামুটি’। ৩০০ পর্যন্ত ‘খারাপ’। ৪০০ হলে ‘খুব খারাপ’। তার ওপরে ‘গুরুতর বিপজ্জনক’।

সুপ্রিম কোর্টের উদ্বেগ প্রকাশের দিনেই সুইজারল্যান্ডের ‘আইকিউএয়ার’ সংস্থা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বায়ু দূষণের ১০ শহরের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে ভারতের রাজধানী দিল্লি রয়েছে এক নম্বরে। দ্বিতীয় স্থানে লাহোর। এই তালিকায় চার নম্বরে রয়েছে কলকাতা, ষষ্ঠ স্থানে মুম্বাই। চীনের চেংডু শহরের স্থান আট নম্বরে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন