সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে ধর্মের প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত সোমবার বলেছেন, দেশটি কত দিন ধর্মনিরপেক্ষ থাকবে তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সব নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন বিধিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী আদালত প্রতিষ্ঠার দাবিতে একটি জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) শুনানির সময় বিচারপতি বিক্রমজিৎ সেন বলেন, ‘এটা একটা ধর্মনিরপেক্ষ (সেক্যুলার) দেশ। তবে আমি জানি না, কত দিন এ রকম ব্যবস্থা বহাল থাকবে। বিবাহবিচ্ছেদ, বিয়ে ও সন্তান দত্তক নেওয়ার মতো পারিবারিক ও নাগরিক ব্যাপারে কোনো ধর্ম সম্প্রদায়ের নিজস্ব নিয়মকানুনকে স্বীকৃতি দিতে আইনকে বাধ্য করা উচিত নয়।’
বিচারপতি আরও বলেন, আদালতের এমন জায়গায় যাওয়া উচিত নয়, যাতে প্রতিটি ধর্মের মানুষ তাদের নিজস্ব বিধিমালা আইনের আওতাভুক্ত করার দাবি জানাতে পারে। ধর্মকে নাগরিক (সিভিল) বিষয়গুলোর বাইরে রাখতে হবে।
সংশ্লিষ্ট জনস্বার্থ মামলার আবেদনে বলা হয়, ক্যানন ল’ ভারতীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি নিজস্ব বিধি। এ ব্যাপারে ধর্মীয় আদালতে অনুমোদিত বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশকে বৈধ ও বাধ্যতামূলক ঘোষণা করতে হবে। আবেদনকারী ক্ল্যারেন্স পেইস কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণা কানাড়া ক্যাথলিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি। খ্রিষ্টান ধর্মীয় আদালতে অনুমোদিত বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি আবার বিয়ে করে ফৌজদারি আদালতের মুখোমুখি হয়েছেন। ভারতীয় আদালতে ওই বিবাহবিচ্ছেদ স্বীকৃতি না পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিবাহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন