সম্মেলনে একাধিক বক্তা তলোয়ার ও বন্দুক জোগাড় করে অপর সম্প্রদায়কে আক্রমণ করতে হিন্দুদের খোলাখুলি উসকানি দিয়েছেন বলে গোখলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। এ সময় বিহারের পাটনার এক সাধু ধরম দাস মহারাজ বলেছেন, ‘আমার যদি বন্দুক থাকত তাহলে আমি নাথুরাম গডসের মত সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে সংসদের মধ্যে হত্যা করতাম।’ নাথুরাম গডসে ভারতের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে হত্যা করেছিলেন। এ ধরনের বক্তব্যের একাধিক ভিডিও অভিযোগের সঙ্গে পুলিশকে পাঠিয়েছেন গোখলে।

উত্তর প্রদেশের বেনারসের জুনা আখড়ার সাধু ইয়াতি নর্সিমানন্দ ধর্ম সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। তাঁর নামে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়েছে।

এ সময় ইয়াতি নর্সিমানন্দ তাঁর ভাষণে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, ‘শুধু তলোয়ারে হবে না, আরও ভালো অস্ত্র প্রয়োজন।’ নর্সিমানন্দ ধারাবাহিকভাবে গত কয়েক বছর ধরে এই ধরনের ঘৃণা উদ্রেককারী ভাষণ দিচ্ছেন। এসব ঘটনায় কয়েকটি মামলা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ভারতের কোনো সরকার।

সম্মেলনে বিজেপির মহিলা সংগঠনের সদস্য উদিতা ত্যাগী এবং বিজেপির নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায় (যিনি ঘৃণা উদ্রেককারী ভাষণ দিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে রয়েছেন) ছাড়াও একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের অসংখ্য নেতা-নেত্রী অংশ নেন। এই সব তথ্য পুলিশকে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা সাকেত গোখলে।

ভারতীয় আইনের ১৫৩-এ, ২৯৫-এ ধারায় এই ধরনের মন্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর প্রদেশের নির্বাচনের আগে ভারতে এই ধরনের আয়োজন আরও বাড়তে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী সোমবারের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সাকেত গোখলে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন