default-image

ধর্ষণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ভারতের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। এ দাবি বাস্তবায়নে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ একটি উন্মুক্ত আবেদনে সই করেছেন। খবর এএফপির।

সম্প্রতি একটি ধর্ষণ মামলার শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘যদি তুমি তাকে (ধর্ষণের শিকার নারী) বিয়ে কর, তাহলে আমরা তোমাকে সহায়তা করতে পারি। যদি তা না কর, তাহলে তুমি চাকরি হারাবে এবং তোমাকে জেলে যেতে হবে।’

অরবিন্দ বোবদের এমন মন্তব্য ভারতজুড়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। বিশেষত, নারী ও মানবাধিকারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে এ মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন। পরে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে একটি আবেদন উন্মুক্ত করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এ আবেদনে ৫ হাজার ২০০ জন সই করেছেন বলে জানান ভারতীয় অধিকারকর্মী বাণী সুব্রাহ্মনিয়ান।

আবদেন বলা হয়েছে, এমন বিয়ে ধর্ষণের শিকার নারীকে সব সময় চাপের মধ্যে রাখতে পারে। চাপ থেকে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে। এমন আশঙ্কার মুখে প্রধান বিচারপতির মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের মন্তব্য করা কিংবা উদ্যোগ নেওয়া সমীচীন নয়। এটা কোনো সমাধান হতে পারে না।

সম্প্রতি অরবিন্দ বোবদের আরেকটি মন্তব্য বেশ আলোচিত হয়েছে। বিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যকার জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ বলতে নারাজ এ বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘একজন স্বামী পাশবিক হতে পারেন। কিন্তু আইনগতভাবে বিবাহিত দম্পতির মধ্যকার যৌন সম্পর্ককে আমরা কীভাবে ধর্ষণ বলতে পারি?’

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক পিটিশনে বোবদের আগের ওই মন্তব্যের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এমন মন্তব্যের মাধ্যমে স্বামীর দ্বারা সংঘটিত যেকোনো ধরনের শারীরিক, মানসিক কিংবা যৌন সহিংসতার ঘটনার আইনি ভিত্তি দেওয়া যাবে না। কেননা, ভারতীয় নারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিবাহ–পরবর্তী যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে আসছেন। এসব বিষয়ে তাঁরা প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তাও পান না।

কেননা, ভারতীয় আইনে বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

২০১২ সালে রাজধানী দিল্লিতে বাসে গণধর্ষণ, হত্যা এবং এর জেরে ভারতজুড়ে তীব্র বিক্ষোভের পর থেকে ভারতে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনাগুলো বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। এ পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান বিচারপতির এসব মন্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বেশ আলোচিত হয়েছে। তবে তুমুল সমালোচনা ও পদত্যাগের দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ভারতের প্রধান বিচারপতি অরবিন্দ বোবদে।

ভারতের ৪৭তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর দায়িত্ব নেন শরদ অরবিন্দ বোবদে। আগামী ২৩ এপ্রিল তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। বোবদের আগে ভারতের প্রধান বিচারপতি ছিলেন রঞ্জন গগৈ। হ্যাশট্যাগ মি টু আন্দোলনের সময় ২০১৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এক নারী সহকর্মী।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন