কেরালা হাইকোর্টের বিচারপতি পি বি সুরেশ কুমার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে অভিমত জানাতে নোটিশ জারি করেছেন। কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়ার সময় বিচারপতি বলেন, এ নতুন বিধিনিষেধের ফলে বাক্‌স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

নতুন তথ্যপ্রযুক্তি আইন দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এ আইনে বহুজাতিক ডিজিটাল গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে। টুইটার-ফেসবুকের মতো সব সংস্থাকে বলা হয়েছে, এ দেশে কাজকারবার করতে গেলে আইন মেনে চলতে হবে। প্রতিটি সংস্থায় এমন একজন অভিযোগ গ্রহণকারী কর্তা বা ‘কমপ্লায়েন্স অফিসার’ নিয়োগ করতে হবে, যিনি হবেন ভারতীয়। দেশের নিরাপত্তা, অখণ্ডতার পক্ষে বিপজ্জনক যেকোনো সংবাদ বা পোস্ট প্রথম কে করেছেন—তা জানাতে ডিজিটাল গণমাধ্যম বাধ্য থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এ নতুন সংশোধন নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক মামলা হয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা বা মিডিয়া হাউস যেসব মামলা দায়ের করেছে, সেগুলো সব একত্র করে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য কেন্দ্র গতকাল শুক্রবার সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন জানায়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তড়িঘড়ি করে তা মানতে রাজি হননি। ১৬ জুলাই শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।

নিউজ ব্রডকাস্টার অ্যাসোসিয়েশনের মতে, মিডিয়া এতকাল ধরে স্বনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া সাফল্যের সঙ্গে অনুসরণ করে চলেছে। স্বনিয়ন্ত্রিত সংস্থার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। তা ছাড়া সাম্প্রদায়িকতায় উসকানি বা অন্যান্য অপরাধের জন্য প্রচলিত আইনেই যথেষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

ভারতের নতুন এ তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অধিকারকর্মীরা। এ আইনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে দেশটিতে।