default-image

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের লড়াই শুক্রবার নতুন মোড় নিল। দিল্লির রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়ে দিল, তাদের দেওয়া সস্তার চাল–গম রাজ্য সরকার তাদের অন্য কোনো প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারবে না।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সম্প্রতি ‘মুখ্যমন্ত্রী ঘর ঘর রেশন’ প্রকল্প শুরুর কথা জানিয়েছিলেন। এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি সরকার তাঁদের প্রাপ্য চাল–ডাল–চিনি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২৫ মার্চ থেকে এ প্রকল্প চালু হওয়ার কথা। তার আগেই এই কেন্দ্রীয় ফরমান। কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এস জগন্নাথন শুক্রবার এক চিঠিতে রাজ্য সরকারকে জানায়, জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা আইন অনুযায়ী রাজ্যকে কেন্দ্র ভর্তুকিযুক্ত যে খাদ্য দিচ্ছে, তা অন্য কোনো নামে ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ, কেন্দ্রের দেওয়া সস্তার খাদ্যদ্রব্য রাজ্য সরকার ‘মুখ্যমন্ত্রী ঘর ঘর রেশন’ প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারবে না।

বিজ্ঞাপন

এই নির্দেশ পেয়ে রাজ্য সরকার স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ। রাজ্য সরকার বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার ঘরে ঘরে রেশন পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্প বন্ধ করে দিল। দিল্লির ক্ষমতাসীন দল আম আদমি পার্টির পক্ষে টুইটে একই মন্তব্য করে প্রশ্ন তুলেছে, রেশন মাফিয়াদের শেষ করতে মোদি সরকার কেন বাধা দিচ্ছে?

দিল্লিতে দালালরাজ শেষ করতে কেজরিওয়াল সরকার বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। বহু পরিষেবা উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। রেশনও ছিল তার অন্যতম। গরিবদের রেশন তুলতে যাতে সময় নষ্ট না হয়, সে জন্য প্রাপ্য রেশন বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পের কথা মুখ্যমন্ত্রী গত প্রজাতন্ত্র দিবসের ভাষণে জানিয়েছিলেন।

দিল্লি পূর্ণ রাজ্য না হওয়ায় কেন্দ্র নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম করতে নানাভাবে সক্রিয়। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও উপরাজ্যপালের সঙ্গে দিল্লি সরকারের টানাপড়েন অব্যাহত। সম্প্রতি লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিল এনে বলেছে, রাজ্য সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তে উপরাজ্যপালের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো কোনো বিষয়ে রাজ্য সরকারকে তার মতামত নিতে হবে উপরাজ্যপালই তা ঠিক করবে। স্পষ্টতই, এই বিলের মধ্য দিয়ে কেন্দ্র সর্বস্তরে রাজ্যের অধিকার খর্ব করতে চায়। এই লড়াইয়ের মধ্যেই শুরু হলো নতুন বিতর্ক। এখন দেখার, কেজরিওয়ালের ‘ঘর ঘর রেশন’ প্রকল্প চালু হয় কি না।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন