default-image

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম আসনে কে জিতেছেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেওয়ার পর আলোচিত ওই আসনে ভোটের ফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে।

এই বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস টানা তৃতীয় দফায় জয়ী হতে চলেছে। ২১৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তারা, যেখানে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি। তবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেই নন্দীগ্রামে ভোটের ফল নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

রোববার দিনভর এই আসনের ভোট গণনায় মমতার সঙ্গে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলতে থাকে। সন্ধ্যায় এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকাসহ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবর দেয়, শুভেন্দুকে ১ হাজার ২০২ ভোটে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর কিছুক্ষণ পর আনন্দবাজার সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের খবর দেয়। মমতার চেয়ে ১ হাজার ৬২২ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হওয়ার খবর শুভেন্দুই তাদের জানিয়েছেন বলে পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে ভোটের ফল মেনে নেওয়ার কথা বলেন। তবে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতে যাব।’

এর ঘণ্টাখানেক পর নন্দীগ্রামে ফল ঘোষণা স্থগিতের খবর দেয় আনন্দবাজার। রাজ্যের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, নন্দীগ্রামে নতুন করে ভোট গণনা হতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে আপাতত ফল ঘোষণা স্থগিত থাকবে।

কে এই শুভেন্দু অধিকারী?

২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ক্ষমতায় আসেন, সেবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল নন্দীগ্রাম। সে সময় মমতার সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সাবেক কংগ্রেস নেতা শুভেন্দু ২০০৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে পরের বছর নন্দীগ্রামে কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ওই এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার জন্য ভূমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিলে রুখে দাঁড়ান তিনি। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া শুভেন্দু সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠজন হয়ে ওঠেন। ওই আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে মমতার ক্ষমতায় আসার পথ তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল বলে বলা হয়।

এরপর তৃণমূল থেকে লোকসভার সদস্য এবং পরে বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ২০১৬ সালে মমতার সরকারে পরিবহনমন্ত্রী হন তিনি। গত বছর মন্ত্রিত্ব ও দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। তাঁর পথ ধরে তৃণমূলের আরও বেশ কয়েকজন নেতা দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন।

এবার শুভেন্দু নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলে সেই আসনেই ভোটের লড়াইয়ে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ভবানীপুরের আসন ছেড়ে সেখানে প্রার্থী হন তিনি। সেখানে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন এক মন্দিরে গিয়ে আহত হয়েছিলেন মমতা। বিজেপি ‘পরিকল্পিতভাবে’ এ ঘটনা ঘটিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। অপরদিকে মমতাকে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন