default-image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। স্থানীয় সময় আজ সকাল সাতটা থেকে রাজ্যের চার জেলার ৩০টি আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে করোনাবিধি মেনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। ভোট শেষ হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়।

পশ্চিমবঙ্গের যে চারটি জেলায় ভোট গ্রহণ হচ্ছে, সেগুলো হলো বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা। রাজ্যে রয়েছে মোট ২৯৪টি আসন। প্রথম দফায় গত ২৭ মার্চ ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল পাঁচটি জেলার ৩০টি আসনে। পশ্চিমবঙ্গে ভোট গ্রহণ হবে আট দফায়। শেষ হবে ২৯ এপ্রিল। আর ফলাফল ঘোষিত হবে আগামী ২ মে।

আজকের এই নির্বাচনের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনটি। এই আসনে এবার লড়ছেন তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসনটি ছেড়ে এসেছেন এই আসনে। এখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁরই দলের সাবেক মন্ত্রী ও নন্দীগ্রামের সাবেক বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।

এই শুভেন্দু অধিকারী গত ডিসেম্বর মাসে মমতার দলের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তখনই শুভেন্দু ঘোষণা দিয়েছিলেন, মমতা যদি তাঁর আসনে লড়তে আসেন, তবে তিনি মমতাকে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেবেন। এরপরই শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নন্দীগ্রাম আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মমতা। ফলে, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এবার এই নন্দীগ্রাম আসনই দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে গোটা ভারতে আকর্ষণের মূল কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

আজকের নির্বাচনে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ১৫২ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী। আজকের ভোট নেওয়া হবে ১০ হাজার ৬২০টি ভোটকেন্দ্রে। সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন ৩৮ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। ভোট নির্বিঘ্ন করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনেই নিয়োগ করা হয়েছে ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

নন্দীগ্রামের ৩৫৫টি ভোটকেন্দ্রকেই অতি স্পর্শকাতর কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতি ভোটকেন্দ্রে নিয়োগ করা হয়েছে আটজন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যকে। গড়া হয়েছে ২২টি কুইক রেসপন্স টিম। এই নন্দীগ্রাম আসনে এর আগের নির্বাচনে আটবার জিতেছেন বাম দলের প্রার্থী। আর তিনবার জিতেছেন তৃণমূলের প্রার্থী।

বিজ্ঞাপন

নন্দীগ্রামে ২০০৭ সালে রসায়নশিল্প গড়ার জন্য সাবেক বামফ্রন্ট সরকার ২৭ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি দিলে শুরু হয় জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলন। আর তার নেতৃত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি সেই একই সময়ে চলে হুগলির সিঙ্গুরেও টাটাকে দেওয়া জমির বিরুদ্ধেও আন্দোলন। সেই আন্দোলনের জেরে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা।

আজকের ৩০ আসনে মোট ১১ জন তারকা প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। এই তারকা প্রার্থীরা হলেন নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সবং আসনে তৃণমূল প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, ময়না আসনে তৃণমূলের অশোক দিন্দা, চণ্ডীপুর আসনে তৃণমূল প্রার্থী অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী, খড়গপুর আসনে বিজেপি প্রার্থী অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়, ডেবরায় তৃণমূল প্রার্থী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর এবং বিজেপি প্রার্থী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ভারতী ঘোষ, বাঁকুড়া আসনে তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নন্দীগ্রামে সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং কাকদ্বীপে তৃণমূলের সাবেক মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা।

আজকের যে ৩০টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র একটি আসন বিজেপির থলিতে গিয়েছিল। সেটি হলো খড়গপুর আসন। আর তা জিতেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এ ছাড়া ২১টি আসন তৃণমূল, ৫টি আসন সিপিএম ও ৩টি গিয়েছিল কংগ্রেসে। আর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই ৩০ আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ১৮টি এবং বিজেপি পেয়েছিল ১২টি।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন