default-image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা নন্দীগ্রামে জয় পেলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ রোববার সকালে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকে এ আসনে ক্ষণে ক্ষণে পাল্টাতে থাকে চিত্র। প্রথমে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

২০১১ সালে মমতা যখন পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ক্ষমতায় আসেন, সেবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল নন্দীগ্রাম। সে সময় মমতার সহযোগী শুভেন্দু অধিকারীই এবার ছিলেন তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া শুভেন্দুকে হারালেন তিনি।

সাবেক কংগ্রেস নেতা শুভেন্দু ২০০৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে পরের বছর নন্দীগ্রামে কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ওই এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার জন্য ভূমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিলে রুখে দাঁড়ান তিনি। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া শুভেন্দু সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠজন হয়ে ওঠেন। ওই আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে মমতার ক্ষমতায় আসার পথ তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল বলে ধারণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এরপর তৃণমূল থেকে লোকসভার সদস্য এবং পরে বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ২০১৬ সালে মমতার সরকারে পরিবহনমন্ত্রী হন তিনি। গত বছর মন্ত্রিত্ব ও দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। তাঁর পথ ধরে তৃণমূলের আরও বেশ কয়েকজন নেতা দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন।

এবার তিনি নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলে সেই আসনেই ভোটের লড়াইয়ে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ভবানীপুরের আসন ছেড়ে সেখানে প্রার্থী হন তিনি। সেখানে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন এক মন্দিরে গিয়ে আহত হয়েছিলেন মমতা। বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

default-image

সকাল ৮টায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯২ আসনের ভোট গণনা শুরু হয়। তখন থেকেই ভোটের খবরের বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম। সেখানে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে ছিলেন মমতা। তবে বেলা দুইটার পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। দুপুরের দিকে এগিয়ে গেলেও আবার পরে সামান্য ভোটে পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মমতা ১ হাজার ২০১ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। দলীয় প্রধানের সঙ্গে বিজয়ের পথে রয়েছে তৃণমূল।

ইতিমধ্যে তৃণমূল জয়ের পথে থাকায় বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে থাকা বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বিজেপির পরাজয় মেনে নিয়েছেন।

চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে কৈলাস সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘জয় হলে সেটা মমতারই জয় হয়েছে।’ তবে তিনি এ কথাও বলেছেন, বাবুল সুপ্রিয় ও লকেট চট্টোপাধ্যায়ের পরাজয়কে তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

এদিকে মমতার এই বিপুল বিজয়ে উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব মমতাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘বিজেপির ঘৃণার রাজনীতিকে হারালেন মমতা। অভিনন্দন মমতাকে।’

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন