default-image

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এবার রাজ্য সচিবালয় নবান্ন দখলে মহা প্রচারযুদ্ধে নেমেছে বিজেপি। ময়দানে আছে তৃণমূলও। বিজেপির লক্ষ্য রাজ্য সচিবালয়ের নীলবাড়ি দখল। আর তৃণমূল চায় এ বাড়িতেই আরও পাঁচ বছর থাকতে।

এই প্রচারযুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার থেকে বিজেপি শুরু করছে আরেকটি নতুন কৌশল ‘এলইডি রথযাত্রা’। এলইডি বাতির আলোয় সাজিয়ে ছোট একটি গাড়ির তিন দিকে তিনটি স্ক্রিনে নির্বাচনী প্রচার শুরু করছে তারা। বিজেপি বলেছে, এই প্রচার চলবে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে। এই রথযাত্রায় যোগ দেবেন বিজেপির নেতারা।

সকালে এই যাত্রার সূচনা হওয়ার কথা ছিল দক্ষিণ কলকাতার হেস্টিংস এলাকায় অবস্থিত বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী দপ্তর থেকে। প্রচারযাত্রার সূচনা করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। গতকাল রাতেই তিনি পৌঁছে গেছেন কলকাতায়।

বিজ্ঞাপন

এই রথযাত্রার মূল স্লোগান, ‘চলো চলো মোদির সঙ্গে’। প্রচারযাত্রায় বিরাট স্ক্রিনে থাকছে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের স্তুতি, বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতির কথা। শুধু তাই নয়, এই রথে থাকবে একটি পরামর্শ বাক্সও। সেখানে যে কেউ দিতে পারবেন নিজেদের পরামর্শ। আবার এই রথ বিভিন্ন এলাকায় দাঁড় করিয়ে নেতারা শুনবেন জনগণের কথা। এসব কথা রেকর্ড করা হবে। তারপর সব পরামর্শ পর্যালোচনা করে তৈরি হবে বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তেহার। শুধু এলইডি রথেই নয়, এ রকম ৩০ হাজার সাজেশন বাক্স রাখা হবে রাজ্যের ১০০টি এলাকায়।

এদিকে গতরাতে কলকাতায় আসা জেপি নাড্ডার প্রখ্যাত সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নৈহাটির কাঁঠালবাগানের বাড়িতে যাওয়ার কথা আজ। দুপুরে বারাকপুরের গৌরীপুরের এক জুট মিলের কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজনও সারার কথা। নাড্ডার বারাকপুরে স্বাধীনতাসংগ্রামী মঙ্গল পান্ডের স্মৃতিসৌধে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে। এরপর বিকেলে আনন্দপুর খেলার মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে যোগ দেবেন। বিকেলে কলকাতার সায়েন্স সিটিতে সোনার বাংলা প্রকল্প উদ্বোধন ও কলকাতার বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

নীলবাড়ি দখলে বিজেপি ৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যব্যাপী শুরু করে পরিবর্তন যাত্রা। এটি শুরু হয় রাজ্যের পাঁচ প্রান্ত থেকে। ৬ ফেব্রুয়ারি নবদ্বীপ থেকে প্রথম পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নাড্ডা। ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরিবর্তন যাত্রা শুরু করেছিলেন বীরভূমের তারাপীঠ ও ঝাড়গ্রামের লালগড় থেকে। ১১ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ যাত্রা কোচবিহার থেকে শুরু করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর পঞ্চম বা শেষ যাত্রাও শুরু করেছিলেন অমিত শাহ, ১৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা থেকে। এই পাঁচ যাত্রার শেষ হবে এ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগামী মাসের ৭ তারিখে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন