default-image

ভালোবেসে নাতির নাম সাদ্দাম হোসেন দিয়েছিলেন দাদা। কিন্তু আদর করে দেওয়া দাদার ওই নামই নাতির জীবনে ঘটাচ্ছে যত বিপত্তি।
ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেনের ছাত্রজীবনটা বেশ ভালোই ছিল। নাম নিয়ে কখনই কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি তাঁকে। তামিলনাড়ুর নুরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বেরোনোর পরে চাকরি জোটাতে গিয়েই বাধে যত সমস্যা। আর সমস্যার কারণ তাঁর নাম।
এক-দুবার নয়, নামের কারণে দুই বছরে ৪০ বার সাদ্দামের চাকরির আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
সাদ্দাম বলেন, প্রথমে বুঝতাম না কেন আবেদনপত্র বাতিল হচ্ছে। একদিন বাতিল হওয়া কয়েকটি সংস্থার মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগে যোগাযোগ করি। জানতে পারি অদ্ভুত এই কথা। নামের কারণে বাতিল হচ্ছে আমার আবেদনপত্র। ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের নামে আমার নাম হওয়ায় আমাকে নিয়ে তাঁদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।
এই অদ্ভুত ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে আইনি সহায়তায় নিজের নাম বদল করেছেন সাদ্দাম। এখন তাঁর নাম সাজিদ হোসেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট—সবকিছুতেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। নাম পরিবর্তনের পর সাদ্দাম ভেবেছিলেন, যাক এবার ঝামেলা কেটেছে। তবে তাঁর বিপত্তি তখনো কাটেনি। নুরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর ইঞ্জিনিয়ারিং সার্টিফিকেটে নাম পরিবর্তন করতে আপত্তি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যুক্তি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে সার্টিফিকেটেও নাম পরিবর্তন করতে হবে।
হতাশ সাদ্দাম আবারও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আগামী ৫ মে ঝাড়খণ্ডের আদালতে এই মামলার শুনানির তারিখ ধার্য আছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন