বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টানা ৩২ বছর উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস ক্ষমতার বাইরে। এই তিন দশকে শতবর্ষী এই দল প্রাসঙ্গিক থাকতে চেষ্টার অন্ত রাখেনি। কখনো একাকী, কখনো সমাজবাদী পার্টি, কখনো বহুজন সমাজ পার্টি, কখনো–বা রাষ্ট্রীয় লোকদলের সঙ্গে জোট বেঁধে ভোটে লড়েছে। কিন্তু সাফল্য আসেনি। ভোটব্যাংক সব লুট হয়ে গেছে। প্রাপ্ত ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৬ শতাংশে। মুসলমানরা বেছে নিয়েছেন সমাজবাদী পার্টিকে। দলিতরা মায়াবতীকে। ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়রা বিজেপিকে। দেড় বছর আগে রাজ্যের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর হাতে। প্রিয়াঙ্কা বেছে নিয়েছেন রাজ্যের নারীদের। তাঁদের জন্য একে একে বেশ কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর এবার তিনি পৃথক নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কথা শোনালেন। শুধু তা–ই নয়, টুইটের সঙ্গে তিনি জুড়েও দিলেন সরকার গড়তে পারলে নারীদের জন্য কী কী করা হবে, সেই তালিকা।

প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, আগামী ভোটে মোট মনোনয়নপত্রের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে নারীদের। এটা ছিল তাঁর প্রথম প্রতিশ্রুতি। তার পরেই জানিয়েছিলেন, স্কুল পাস নারীদের স্মার্টফোন ও কলেজ পাস নারীদের ইলেকট্রিক স্কুটি দেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায়ন ছাড়াও দুটি জিনিসই রাজ্যে নারীর নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এই সঙ্গে তিনি জানান, বছরে তিন সিলিন্ডার রান্নার গ্যাস দেওয়া হবে বিনা মূল্যে। বিনা খরচায় সব নারী সারা রাজ্যে সরকারি বাসে ভ্রমণ করতে পারবেন। নতুন সরকারি পদে ৪০ শতাংশ নারীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বয়োজ্যেষ্ঠ নারী ও বিধবাদের মাসে এক হাজার রুপি করে পেনশনের ব্যবস্থা করা হবে। ‘আশা’ ও ‘অঙ্গনবাড়ি’ নারী কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে প্রতি মাসে ১০ হাজার রুপি করা হবে। স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য রাজ্যে মোট ৭৫টি কেন্দ্র খোলা হবে। সেগুলোর নামকরণ হবে রাজ্যের বীরাঙ্গনা নারীদের নামে। কংগ্রেস মনে করছে, জাতপাতের লড়াইয়ে না গিয়ে নারীদের মন জয় করতে পারলে সেটাই হবে সঠিক ভবিষ্যৎ রণনীতি। নারীদের সমর্থন বিহারে নীতীশ কুমারকে আর পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় বসিয়েছে।

প্রিয়াঙ্কা যেদিন বিনা মূল্যে তিনটি করে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়ার কথা জানালেন, সেদিনই কেন্দ্রীয় সরকার সিলিন্ডারপ্রতি দাম ২৬৬ রুপি বাড়িয়ে দেয়। এখন দিল্লিতে একটি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার রুপি। অন্যত্র আরও বেশি।

উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস এখনো কোনো দলের সঙ্গে জোট বাঁধার কথা জানায়নি। সমাজবাদী পার্টি ইতিমধ্যেই জোটবদ্ধ হয়েছে পশ্চিম উত্তর প্রদেশে প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় লোকদলের সঙ্গে। জাট সম্প্রদায় অধ্যুষিত এ অঞ্চল কৃষক আন্দোলনে উত্তাল। একসময়ের বিজেপি ঘনিষ্ঠ কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত সরাসরি বিজেপির বিরোধিতা শুরু করেছেন। আগামী ২৬ নভেম্বর কৃষি আইন প্রত্যাহার আন্দোলনের এক বছর পূর্তি হচ্ছে। এর মধ্যে তিন আইন প্রত্যাহার না হলে নতুন করে দিল্লি অবরোধের কর্মসূচি ঘোষিত হয়েছে সোমবার। এ অবস্থায় সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব সোমবারই জানিয়েছেন, আগামী বছর বিধানসভা ভোটে তিনি প্রার্থী হবেন না।

আজমগড় থেকে লোকসভায় নির্বাচিত অখিলেশ গতকাল সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এক সাক্ষাৎকারে এই কথা জানালেও কেন ভোটে লড়বেন না তা বলেননি। বোঝা যাচ্ছে, সর্বত্র প্রচারের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। সরকার গড়ার মতো অবস্থায় পৌঁছালে তখন উপনির্বাচনে জেতার কথা ভাববেন। যদিও দলের মুখ্যমন্ত্রী মুখ তিনিই।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন