বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাহুল যখন লক্ষ্ণৌ বিমানবন্দরে নামেন, তখন পরিবহনব্যবস্থা নিয়ে উত্তর প্রদেশ পুলিশের সঙ্গে তাঁর মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়। পুলিশের প্রস্তাবিত রুট বা পরিবহন নিতে অস্বীকার করেন রাহুল। তিনি পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমার পরিবহনের ব্যবস্থা করার আপনারা কে? আমি আমার গাড়িতেই যেতে চাই।’

লখিমপুর খেরিতে রাহুল বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নিহত কৃষকদের পরিবারগুলো সন্তুষ্ট নয়। তারা অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায়। তারা বিচার চায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি কে, তা সবাই জানে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, ‘বাবা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আমরা এখানে এসেছি চাপ তৈরি করতে। এই পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।’

লখিমপুর খেরিতে গত রোববার বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষকদের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়া হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস মিশ্র গাড়িচাপা দিয়ে কৃষকদের হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অজয় ও আশিস অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অজয়ের দাবি, কৃষকদের চাপা দিয়ে চলে যাওয়া গাড়িটি তাঁর। কিন্তু ছেলে আশিস গাড়িটি চালাচ্ছিল না। ছেলে আশিস সেদিন সেখানে ছিল না।

লখিমপুর খেরিতে নিহত কৃষকদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে গত সোমবার প্রিয়াঙ্কাকে আটক করা হয়। আটকের ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর গত মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অজয় কুমার লাল্লু, কংগ্রেস নেতা দিপেনদার সিং হুদা ও দ্বীপক সিংকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

নিহত কৃষকদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া কংগ্রেস প্রতিনিধিদলে যোগ দেওয়ার জন্য গতকাল প্রিয়াঙ্কাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নিহত কৃষকদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, এই পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ চায় না। তারা বিচার চায়। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে অজয় মিশ্র পদত্যাগ না করলে তা সম্ভব নয়। তিনি পদে বহাল থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘তারা (পুলিশ) যদি এফআইআর ছাড়াই আমাদের গ্রেপ্তার করতে পারে, তাহলে তারা কেন আশিস মিশ্রকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না?’

বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে অজয়কে বরখাস্ত করার দাবির মধ্যে গতকাল তিনি তাঁর মন্ত্রণালয়ের প্রধান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন। সরকারের শীর্ষস্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, অজয়ের পদত্যাগ করা বা তাঁকে বরখাস্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই। অজয় স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি ও তাঁর ছেলে ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ফলে তিনি চান, এই ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন