default-image

আসন্ন বিধানসভার নির্বাচন ঘিরে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে এখন নির্বাচনী প্রচারযুদ্ধ তুঙ্গে। উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস ও বাম দল—সবাই এখন প্রচারের মাঠে। দলীয় প্রচারকার্য চালাচ্ছে সব রাজনৈতিক দলই। চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে টেক্কা দেওয়ার প্রতিযোগিতা।

এরই মধ্যে বিজেপি এই রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে হটানোর প্রত্যয় নিয়ে শুরু করেছে পরিবর্তন যাত্রা। রাজ্যের পাঁচ প্রান্ত থেকে এই যাত্রা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ যাত্রা গত বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করেছেন বিজেপির নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপ থেকে শুরু হয়েছে এই শেষ পর্বের পরিবর্তন যাত্রা। সব যাত্রাই সমাপ্ত হবে চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা মার্চ মাসের প্রথম দিকে।

শেষের যাত্রা অবশ্য শেষ হওয়ার কথা ৭ মার্চ। ৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম পরিবর্তন যাত্রা শুরু হয় নদীয়া জেলার নবদ্বীপ থেকে। যাত্রার সূচনা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তারপর নাড্ডাই দ্বিতীয় যাত্রা বীরভূমের তারাপীঠ এবং তৃতীয় যাত্রা ঝাড়গ্রামের লালগড় থেকে সূচনা করেছিলেন ৯ ফেব্রুয়ারি। আর চতুর্থ যাত্রা ১১ ফেব্রুয়ারি শুরু করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কোচবিহারের রাসলীলা ময়দান থেকে।

বিজ্ঞাপন

এই সব পরিবর্তন যাত্রা রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র ঘুরে প্রচার চালাচ্ছে। তারপর ৭ মার্চ শেষ যাত্রার শেষের দিন বিজেপি আয়োজিত কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে এক সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখান থেকেই রাজ্য সচিবালয় নবান্ন দখলের চূড়ান্ত প্রচার শুরু করবেন। নবান্ন নতুন রাজ্য সচিবালয়ের নাম। আগে ছিল রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ। মমতা ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য সচিবালয় কলকাতা থেকে সরিয়ে হাওড়ায় নিয়ে আসেন। সচিবালয়টি মমতার পছন্দের রং নীল-সাদা দিয়ে করা হয়। এরপর থেকে নবান্ন নীলবাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এর আগে পুরোনো রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ পরিচিত ছিল লালবাড়ি হিসেবে। সেই বাড়ি এবার দখলের জন্য বিজেপি মাঠে নেমেছে। নীলবাড়ি দখলের লক্ষ্যে পুরো প্রচার শুরু করবেন মোদি আগামী ৭ মার্চ ব্রিগেড সমাবেশ থেকে চূড়ান্ত নির্বাচনী প্রচার শুরুর মধ্য দিয়ে।

এদিকে বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও দুবার কলকাতায় আসার কথা। প্রথম আসছেন আগামী সোমবার। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীর কলকাতার সম্প্রসারিত মেট্রোরেলের উদ্বোধন করার কথা। এদিন মেট্রোরেলের নোয়াপাড়া-দক্ষিণেশ্বর সম্প্রসারিত অংশের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সেই উদ্বোধন শেষ পর্যন্ত দক্ষিণেশ্বরের স্বল্প পরিসর ও সংকীর্ণ জায়গার কারণে নিরাপত্তার খাতিরে ভার্চ্যুয়ালে উদ্বোধন করতে পারেন তিনি। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর হুগলির সাহাগঞ্জের ডানলপ কারখানার ময়দানে এক জনসভায় যোগ দেওয়া কথা রয়েছে।

সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণেশ্বরসহ আরও চারটি সম্প্রসারিত রেল প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল দমদম স্টেশন থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত। সেই মেট্রোরেল ইতিমধ্যে সম্প্রসারিত হয়েছে দমদম থেকে নোয়াপাড়া আর টালিগঞ্জ থেকে গড়িয়া পর্যন্ত। এবার আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত। এই নোয়াপাড়া-দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশের উদ্বোধন করতে মোদি আসছেন কলকাতায়। কলকাতায় প্রথম মেট্রোরেল বা পাতালরেল চালু হয় ১৯৮৪ সালের ২৪ অক্টোবর। প্রথমে ধর্মতলা থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার পথে। এই মেট্রোরেল নির্মাণ শুরু হয় ১৯৭২ সাল থেকে। এখন এই মেট্রোরেলের পরিধি বেড়ে হয়েছে ২৭ দশমিক ২২ কিলোমিটার।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ২৮ ফেব্রুয়ারি আসতে পারেন পশ্চিমবঙ্গে। ওই সময় তাঁর উত্তরবঙ্গ সফর ও নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে পারেন। যদিও ২৮ ফেব্রুয়ারি বাম দল ও কংগ্রেস যৌথভাবে ব্রিগেড ময়দানে নির্বাচনী সমাবেশ ডেকেছে।

এদিকে বিজেপি এই রাজ্যের ১১০টি বিধানসভা আসনকে পাখির চোখ করে সেখানে বিজেপির পোড় খাওয়া বিভিন্ন রাজ্যের ২২ জন সাংগঠনিক নেতাকে নিয়ে আসছে বিধানসভার নির্বাচনে প্রচারকে জোরদার করতে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি সর্বশেষ এই রাজ্যে এসেছিলেন ৭ ফেব্রুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া শিল্প শহরে। তার আগে এসেছিলেন ২৩ জানুয়ারি নেতাজির ১২৫তম জন্মজয়ন্তীতে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন