default-image

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাগ্‌যুদ্ধ চরমে উঠল। মমতাকে পদত্যাগপত্র ‘রেডি’ রাখতে বললেন অমিত। আর বিজেপির মুখে ঝামা ঘষে দেওয়ার জন্য ভোটারদের আহ্বান জানালেন মমতা।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চার দফার নির্বাচন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্চম দফার নির্বাচন ১৭ এপ্রিল। ছয়টি জেলার ৪৫টি আসনে হবে এ নির্বাচন। এর মধ্যে থাকছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, দমদম, বিধাননগর, নিউটাউন, রাজারহাট, মধ্যমগ্রাম, বারাসাত, বসিরহাট, বর্ধমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসন। সেসব আসনের নির্বাচনী প্রচার এখন জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে শাসক দল তৃণমূল, বিরোধী বিজেপি, বাম দল, কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

দলীয় প্রচারে যোগ দিতে গতকাল মঙ্গলবার আবার পশ্চিমবঙ্গে আসেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংসহ বিজেপির নামী নেতারা। এসব নেতার প্রত্যেকের কণ্ঠে ছিল বাংলা জয়ের প্রত্যয়ের ঘোষণা। সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি এবং বিপুল ভোটে মমতাকে হারানোর দৃঢ় প্রত্যয়।

অমিত শাহ দার্জিলিংয়ের লেবং ও জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় বিজেপি আয়োজিত দুটি জনসভায় গতকাল যোগ দিয়ে বলেছেন, ‘মমতা দিদি, রেডি রাখুন পদত্যাগপত্র। আগামী ২ মে হবে আপনার বিদায়ের দিন। আর বাংলার শাসনক্ষমতায় আসবে বিজেপি।’

বিজ্ঞাপন

অমিত শাহ আরও বলেন, দিদিই পাহাড়ে আগুন লাগিয়েছেন। পাহাড়ের উন্নয়নকে ফুলস্টপ করে দিয়েছেন। ব্রেক দিয়েছেন। এত সুন্দর এই দার্জিলিং পর্যটনকেন্দ্রকে দিদি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাননি। শুধু পাহাড়কে বঞ্চিত করেছেন। এবার বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পাহাড়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দেবে। পাহাড়ের সব সমস্যার সমাধান করবে। কেন্দ্রীয় সরকার গোর্খা ভাষাকে স্বীকৃতি দেবে। গোর্খাদের বিরুদ্ধে থাকা সব রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করবে। দূরদর্শনে নেপালি ভাষায় সম্প্রচার হবে।

অমিত শাহ আরও বলেন, এনআরসি নিয়ে এখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তবে সব শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দেবে। ৭০ বছর ধরে উন্নয়নের আলো থেকে পিছিয়ে থাকা এই পাহাড়ি শহরকে আধুনিক পাহাড়ি শহরে রূপ দেবে। অমিত শাহ আরও বলেছেন, শরণার্থী বা উদ্বাস্তুদের এবার ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। শিলিগুড়িতে মেট্রোরেল চালু করা হবে।

কথার লড়াইয়ে অবশ্য মমতাও ছাড় দেননি। নির্বাচনে কমিশনের ২৪ ঘণ্টা নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর গতকাল রাত আটটার পর মমতা উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত ও বিধাননগরে আয়োজিত তৃণমূলের প্রচার সভায় বলেছেন, ‘আমি ছাড়ার নেত্রী নই। আমি স্ট্রিট ফাইটার। কীভাবে ওদের সঙ্গে লড়াই করে জিততে হয়, আমি তা জানি। আমি জানি, বাকি থাকা চার দফায়ও ওরা আমাকে প্রচারে আটকাবে, বাধা দেবে।’

মমতা আরও বলেন, ‘ভোটের দিন মোদি সভা বন্ধ রাখলে আমিও বন্ধ রাখব। আমার এই বাংলার মাটি খাঁটি মাটি, সোনার মাটি। আমি এই বাংলায় বেঙ্গল টাইগারের মতো লড়াই করি। এই লড়াইতেও আমরা জিতবই। আমাদের হাতেই এই বাংলা গড়ে উঠবে সোনার বাংলায়।’

মমতা বলেন, ‘এবার আর মোদি-শাহদের ডেইলি প্যাসেঞ্জারি কোনো কাজে আসবে না। ওরা যদি এতই ভোট জিতত, তবে ওদের দলের সব নেতাকে নিয়ে এই বাংলায় আর ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করতে হতো না। তাই বলছি, ওরা ভোট চাইতে এলে ওদের মুখে ঝামা ঘষে দিন। বুলেটের জবার ব্যালটে দিন।’

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন