বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তুলসীর বাড়ি কর্ণাটক রাজ্যের হান্নালি গ্রামে। হালাক্কি আদিবাসী গোষ্ঠীর সদস্য তিনি। তুলসীর জন্ম একটি দরিদ্র পরিবারে। মাত্র দুই বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। এ কারণে ছোট বয়সেই আয়রোজগারে লেগে পড়তে হয় তাঁকে। তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে স্থানীয় একটি নার্সারিতে কাজ শুরু করেন। স্কুলের আঙিনায় পা রাখার সুযোগ হয়নি তুলসীর। অল্প বয়সেই তাঁর বিয়ে হয়।

সবকিছু ছাপিয়ে তুলসীর বড় পরিচয়—তিনি পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছেন তিনি। এই সময়ে ৩০ হাজারের বেশি গাছের চারা রোপণ করেছেন তুলসী।

এর পাশাপাশি তুলসী দেশটির বন বিভাগের নার্সারিগুলো দেখাশোনা করছেন। উদ্ভিদ নিয়ে অগাধ জ্ঞানের জন্য তাঁর খ্যাতি রয়েছে। এ কারণে তাঁকে ‘অরণ্যের এনসাইক্লোপিডিয়া’ বলা হয়। এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মশ্রী পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে।

তুলসীকে নিয়ে একটি টুইট করেছে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। টুইটে বলা হয়েছে, সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য তুলসীর হাতে পদ্মশ্রী পুরস্কার তুলে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তিনি ৩০ হাজারের বেশি গাছের চারা রোপণ করেছেন। এ ছাড়া ছয় দশক ধরে পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করছেন।

গতকাল পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠান অতিথির আসনে বসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। টুইটারে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী পোশাক পরা তুলসী খালি পায়ে পদ্মশ্রী পুরস্কার নিতে এসেছেন। তিনি নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহসহ অন্য অতিথিদের অভিবাদন জানাচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহও তুলসীকে ফিরতি অভিবাদন জানান। পরে নরেন্দ্র মোদি দাঁড়িয়ে তুলসীর হাত ধরে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

পদ্মশ্রী পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে তুলসীর নানান মুহূর্তের ছবি যোগাযোগের সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা এই ছবিগুলো শেয়ার করে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। অনেকে তুলসীর ছবিগুলোকে দিনের সেরা ছবি বলে অভিহিত করেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন