বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ২৪ অক্টোবর সুব্রতর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তিনি পিজি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে যান। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা যান তিনি।

সুব্রতর মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সুব্রতর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কলকাতার পৌর প্রশাসক ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা পৌর করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ, কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী, সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য প্রমুখ।

গতকাল রাতে সুব্রতর মরদেহ রাখা হয় কলকাতার পিস ওয়ার্ল্ডে। রবীন্দ্রসদনে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আজ শুক্রবার বেলা দুটায় তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে বালিগঞ্জের বাসভবনে। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হবে দক্ষিণ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। সেখানে তাঁর শেষকৃত্য হবে।

সুব্রত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশোনা করেন কলকাতায়। জীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি কংগ্রেস ঘরানার রাজনীতি করেন। শেষ দিকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।

১৯৭২ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে কংগ্রেসের টিকিটে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ আসনে প্রথম বিধায়ক হন সুব্রত। পরে তিনি পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের মন্ত্রিসভায় সর্বকনিষ্ঠ প্রতিমন্ত্রী হন। তিনি তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর পদও পান।

২০০০ সালে সুব্রত কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা পৌর করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। মেয়র পদে থাকা অবস্থায় শেষ দিকে সুব্রতর সঙ্গে তৃণমূলের বনিবনা হচ্ছিল না। এ অবস্থায় তিনি একটি রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে পৌর ভোটে লড়েন। ভোটে তিনি জেতেন। কিন্তু হেরে যান তাঁর মঞ্চের প্রার্থীরা। ফলে কলকাতার মেয়র পদে আর ফিরতে পারেননি তিনি।

পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সুব্রত ফিরে যান কংগ্রেসে। তাঁকে কংগ্রেসের রাজ্য কার্যনির্বাহী সভাপতি করা হয়। ২০১০ সালে তিনি আবার তৃণমূলে ফেরেন। ২০১১ সালে মমতা ক্ষমতায় আসার পর তিন দফায় সুব্রতকে রাজ্যের মন্ত্রীর পদে বসানো হয়। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি পঞ্চায়েতমন্ত্রী ছিলেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন