দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপ, নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ থেকে ৫০টি ট্রলারে করে ১১০ টন জাটকা আনা হয় ডায়মন্ড হারবারের পাইকারি বাজারে। জাটকার বাইরে কিছু ইলিশ এসেছে ৬০০ গ্রাম থেকে প্রায় এক কেজি ওজনের। এসব মাছ গতকাল রাতে নিলামে বিক্রি করা হয়। বিক্রি হয়েছে ক্যানিংয়ের পাইকারি বাজারেও।

৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০০ রুপি কেজি, ৭০০-৮০০ গ্রামের মাছ ৭০০ রুপি ও এক কেজির কাছাকাছি ওজনের বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২০০ রুপি প্রতি কেজি। গত দুই দিন ইলিশের সঙ্গে ধরা পড়েছে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছও। নগেন্দ্র বাজারে এক ট্রলারমালিক বলেছেন, সাগর এখন উত্তাল। ঢেউকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইলিশ ধরার নেশায় মৎস্যজীবীরা এখনো সমুদ্রে জাল পেতে অবস্থান করছেন।

এদিকে গত দুদিনে জাটকা বা খোকা ইলিশ ব্যাপকভাবে ধরা পড়ায় মৎস্য ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এভাবে যদি জাটকা ধরা হয়, তবে এ মৌসুমেও রাজ্যে বড় ইলিশের আকাল দেখা দেবে। তাই ইলিশ ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে জাটকা ধরা বন্ধের আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে। যদিও এখনো রাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে ৫০০ গ্রামের নিচের ইলিশ ধরার ওপর। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই একদল জেলে লোভের বশে ২০০-২৫০ গ্রামের জাটকা ধরছেন।

কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক বিজন মাইতি বলেছেন, এমনিতে সাগর উত্তাল থাকায় বহু ট্রলার সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে। ইতিমধ্যে যেসব ইলিশ ধরা হয়েছে, তার ৬০ শতাংশই জাটকা। তিনি এ কথাও বলেছেন, জাটকা ধরা এখনই বন্ধ না হলে এবার আর বাঙালির পাতে মিলবে না বড় ইলিশ।

এক ট্রলারমালিক বলেছেন, ব্যবসায়িক কারণে একশ্রেণির ট্রলারমালিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জাটকা ধরছেন। এতে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইলিশ ধরার কাজে নিয়োজিত এই রাজ্যের ১১ হাজার মৎস্য ট্রলার।

পরপর তিন বছর সাগরে ইলিশ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন রাজ্যের জেলেরা। কিন্তু দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর প্রথম দিন গভীর সমুদ্রে যাওয়ার আগেই তাঁরা উপকূলে পেয়ে যান ইলিশ। আর তাতেই তিন বছর পর জেলেদের মনে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। প্রথম দিনই ইলিশ ধরা পড়ায় আনন্দে আত্মহারা ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা। প্রথম দিন বৃহস্পতিবারই ডায়মন্ড হারবারের জেলেদের জালে আটকা পড়ে প্রায় তিন টন ইলিশ। ওই দিন রাতে তা পাইকারি নগেন্দ্র বাজারে এনে নিলামে তোলা হয়।

default-image

পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র উপকূলে ইলিশ ধরার মৌসুম শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। রাজ্য সরকার ইলিশের দুই মাসের প্রজননকালে সাগরে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ বছর সেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল ১৫ এপ্রিল। গত তিন বছর পশ্চিমবঙ্গে তেমন মিলছিল না ইলিশ। তাই এবার সরকার ইলিশ ধরার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশের ডিম থেকে পোনা উৎপাদিত হয়। এ বছর এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার রাতেই রাজ্যের আড়াই হাজার ট্রলার ইলিশ ধরতে সমুদ্রে পাড়ি জমায়।

ওয়েস্টবেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক জয়কৃষ্ণ হালদার আগেই সাংবাদিকদের বলেছেন, ইলিশের মৌসুমে এবার ১১ হাজারের বেশি ট্রলার সমুদ্রে ইলিশ ধরতে নামছে। এর মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ৭ হাজার মৎস্য ট্রলার রয়েছে। এ ছাড়া ট্রলার রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘাসহ অন্য সমুদ্র এলাকার মৎস্যজীবীদের। কিন্তু বৃহস্পতিবার সব ট্রলার নামেনি।

জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে প্রথম দিন আড়াই হাজার ট্রলার নেমেছে সমুদ্রে। এরপর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ট্রলারের সংখ্যা বাড়ানো হবে। তবে সমুদ্র এখন পুরো শান্ত নয়। ঢেউ আছে, উত্তাল। তাই ধীরে ধীরে নামানো হচ্ছে ট্রলার।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ১৫ জুন রাত থেকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নামখানা, কাকদ্বীপ, ফ্রেজারগঞ্জ, রায়দীঘি, কুলতলী, পাথর প্রতিমা, সাগরদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবার, বকখালী, ফলতা, হরিরামপুর, সীতারামপুর, নৈনানের অন্তত আড়াই হাজার ট্রলার নিয়ে ইলিশ ধরতে সমুদ্রে নামেন জেলেরা। এ ছাড়া পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর এবং উত্তর চব্বিশ পরগনার সুন্দরবন এলাকার সমুদ্র উপকূলের কয়েক শ জেলে ট্রলার নিয়ে সাগরে গেছেন ইলিশ ধরতে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন