default-image

পশ্চিমবঙ্গে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত করার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ মঙ্গলবার '২১ জুলাই শহীদ দিবসের' ভার্চুয়াল সভায় যোগ দিয়ে মমতা বলেছেন, আগামী বছরের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতবে তৃণমূল। তৃণমূল ক্ষমতায় এলে শুধু আগামী বছর নয়, এই রাজ্যের মানুষদের আজীবন বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হবে।

আজ দুপুর দুইটায় মমতা দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটের বাসভবন থেকে শহীদ দিবসের এই ভাষণ দেন। করোনার কারণে এবার ২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবসের জমায়েত বাতিল করে দেন।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুবকংগ্রেস নেত্রী মমতার নেতৃত্বে রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে ১৩জন নিহত হয় । এই দিনকে স্মরণ করে প্রতিবছর ২১জুলাই তৃণমূল কংগ্রেস 'শহীদ দিবস' পালন করে আসছে রাজ্য জুড়ে। এবার এই শহীদ দিবস ২৭ বছর পার করেছে।

আজকের সভায় মমতা বলেছেন, লোকসভা নির্বাচনে ক'টি আসন পেয়ে অহংকারে ডুবে গেছে বিজেপি, সেই অহংকারের বদলা নেবে এবার তৃণমূল। বিপুল ভোটে জিতবে তৃণমূল। রাজ্যের মানুষ আগামিবারও ভোট দেবে মমতাকে। সাম্প্রদায়িক দল বিজেপিকে ছুড়ে দেবে এই রাজ্যপাট থেকে।
মমতা বলেন, বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে আসবে। ওদের ডাকে সাড়া দেবেন না। ওরা দেশকে ডুবিয়েছে। ওরা সাম্প্রদায়িক, দাঙ্গাবাজ। ওদের ঠাঁই দেবেননা এই রাজ্যে। এই রাজ্য গণতন্ত্রের পূজারি। এখানে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই।

মমতা বলেন, শেষ হয়ে যায়নি জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) এবং জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) বিরোধী আমাদের আন্দোলন। আমরা কি ভুলতে পারি এই আন্দোলনের নামে দিল্লিতে কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেই আন্দোলন বন্ধ হয়নি।
মমতা প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ থেকে যে সব মানুষ এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্বাস্তুরা পেয়েছে নাগরিকত্ব এবং জমির দলিল। তাই ফের আবার কিসের নাগরিকত্ব? ওরা সবাইতো ভারতের নাগরিক। নতুন করে আবার কিসের নাগরিকত্ব? মমতা বলেন, বাংলায় থাকা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ওরা নষ্ট করতে চাইছে। কিন্তু বাংলার মানুষ ওদের কথায় সায় দেবেনা।

মমতা বলেন, এই বাংলা শাসন করবে এই বাংলারই মানুষ। এখানে গুজরাটের মানুষের ঠাঁই হবেনা। বিজেপির সরকার ভাঙার খেলা এই রাজ্যে হবেনা। এই রাজ্য শাসন করবে এই রাজ্যের মানুষ। দিল্লির শাসন এখানে হবেনা।

মমতা বলেন, এই রাজ্যে করোনা প্রতিরোধে রাজ্য সরকার যথেষ্ঠ যত্নবান। রাজ্যে করোনা চিকিৎসার জন্য রয়েছে ১৮ হাজার শয্যা। এর মধ্যে ১১ হাজার শয্যা রয়েছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে। এছাড়া সাত হাজার শয্যা রয়েছে সেফ হোমে। সরকার এই রাজ্যে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে এই রাজ্যবাসীকে করোনার হাত থেকে মুক্ত করতে করোনা যুদ্ধে নেমেছে। মমতা করোনাযুদ্ধে যেসব চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নিয়ে মারা গেছেন তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0