বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেন। মুকুল তৃণমূলে ফিরেছেন, শুভেন্দু অবশ্য এখনো বিজেপিতে আছেন। বিধানসভায় তিনি বিরোধীদলীয় নেতা। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, ‘এক দিন হয়তো শুভেন্দুও আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন।’

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা জয় মুখার্জি গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখা চিঠিতে জানান, তিনি আজও বিজেপিতে মর্যাদা পাননি। উপেক্ষার পাত্র হয়ে থেকেছেন। তাই এবার বিজেপি ছাড়তে চান।

চলচ্চিত্র অভিনেতা জয় মুখার্জি আরও জানান, তৃণমূল থেকে রাজীব বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু সেই রাজীব বিজেপির গালে থাপ্পড় মেরে আবার তৃণমূলে ফিরে গেছেন।

জয় মুখার্জি পশ্চিমবঙ্গে কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রতিবারই হেরেছেন। তাঁর স্ত্রী অনন্যা ব্যানার্জি এখন কলকাতা পৌর করপোরেশনের কাউন্সিলর।

জয় মুখার্জির এমন চিঠির পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, ‘জয়ের অভিযোগ মেনে নিচ্ছি। জয় যেভাবে কাজ করতে চেয়েছিল, তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। শুধু জয় নয়, বিজেপিতে আরও বহু নেতা এখন হতাশ ও নিঃসঙ্গ। জয়ের পারিবারিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক হতাশা আছে। সেই হতাশা থেকে তাঁকে মুক্ত করার জন্য বিজেপি কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং তাঁকে বিজেপির বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ফলে আজ বিজেপির অন্দরে দল ছাড়ার একটা মনোভাব দেখা যাচ্ছে।’

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাবেক সভাপতি ও মেঘালয় রাজ্যের সাবেক রাজ্যপাল তথাগত রায় দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য বিজেপির কার্যকলাপের সমালোচনা করছেন। তাঁর সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মুখ খুলেছেন বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ। তথাগত রায়কে তিনি সরাসরি বলে দিয়েছেন, ভালো না লাগলে দল ছেড়ে দিন। এভাবে দলের সমালোচনা করবেন না। দলের ক্ষতি করবেন না।

দিলীপ এ কথাও বলেছেন, ‘অনেক দালাল নির্বাচনের আগে আমাদের দলে ঢুকে পড়েছিল। কিছু দালাল চলে গেছে, কিছু দালাল এখনো রয়ে গেছে। তারাই এখন উৎপাত করছে। তাদের সবাইকে বাদ দেওয়া হবে, তারা চায় না বিজেপি শক্তিশালী হোক।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়ছে। এ কারণে দলটিতে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ফলে বাড়ছে দল ছাড়ার হিড়িক। রাজ্যে কমছে বিজেপির জনপ্রিয়তা।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন