default-image

ভারতজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গেও।

আজ শনিবার সকালে সর্বশেষ খবরে বলা হয়েছে, ভারতে এখন পর্যন্ত ৮৮৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আর মারা গেছে ১৯ জন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে কেরালায়। সংখ্যা ১৭৬। দ্বিতীয় স্থানে মহারাষ্ট্র। সংখ্যা ১৫৬।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও বেড়েছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। গতকাল শুক্রবার রাতে এই সংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে ১৫ হয়েছে। এদিন একই পরিবারের পাঁচজন আক্রান্তের খবর মিলেছে।

এই পরিবারের পাঁচজন আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে রয়েছে ৯ মাস ও ৬ বছর বয়সী দুটি শিশুকন্যা, ৬ বছরের এক শিশুপুত্র, ২৭ বছরের এক নারী এবং ৪৫ বছরের আরেক নারী। এই পাঁচজনের পরীক্ষার পর গতকাল মিলেছে করোনাভাইরাস। রাতেই এই পাঁচজনের সংক্রমণের কথা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তর।

আক্রান্ত এই পাঁচজন থাকেন ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যে। তাঁদের মূল বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্টে। এই পরিবারের এক সদস্য ১৩ মার্চ লন্ডন থেকে দিল্লিতে আসেন। এই পরিবারের সদস্যরা তাঁর সংস্পর্শে আসে ওই সময়। এরপর বিদেশ থেকে আসা ওই তরুণ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নেওয়া হয় দিল্লির রামলোহিয়া হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষায় ওই তরুণের করোনা ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে ভর্তি করা হয় ওই হাসপাতালে। আর বাকিদের বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই পরিবারের সদস্যসহ পরিবারের ১৩ জন দিল্লির ওই নির্দেশ অমান্য করে দিল্লি থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে ১৯ মার্চ চলে আসেন পশ্চিমবঙ্গের শিয়ালদহ। সেখান থেকে লালগোলা এক্সপ্রেস ট্রেনে নিজের এলাকা তেহট্টে। তেহট্টে আসার পর ২৭ বছর বয়সী নারী অসুস্থ বোধ করেন। এরপরেই তাঁরা তেহট্ট হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকেরা ১৩ জনকে হাসপাতালের আইসোলেশনে ওয়ার্ডে রাখেন। আর পাঠিয়ে দেওয়া হয় ওই ১৩ জনের সোয়াব। গতকাল রাতেই সোয়াবের রিপোর্টে ধরা পড়ে পাঁচজনের শরীরে করোনাভাইরাস উপস্থিতির। এরপরই এই পাঁচজনসহ অন্যদের আজ নিয়ে আসা হচ্ছে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে।

এদিকে এর আগে কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরেক প্রবীণ ব্যক্তির অবস্থা এখন সংকটজনক। এই প্রবীণ ব্যক্তির বাড়ি কলকাতার নয়াবাদে। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে এক বিদেশির সংস্পর্শে এসেছিলেন। ওই সময় তিনি ঘুরতেও যান দিঘায়। দিঘা থেকে ফিরে আসার পর তাঁর শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাঁকে গাড়িতে করে কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। আর তাঁর পরিবারের পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে। রাখা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ডে।

ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২০৮ জন সন্দেহভাজন রোগী। আর হোম কোয়ারেন্টিন রাখা হয়েছে ২৬ হাজার ৮৯৯ জনকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0