default-image

পশ্চিমবঙ্গে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২৭ জন। সংক্রমিত ১ হাজার ৮৮ জন। গত ১৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এরপর এ সংখ্যা সর্বোচ্চ।

গতাকাল কলকাতায় সংক্রমণ ঘটেছে ৩২৪ জনের। মৃত্যু ১৩ জনের। সব মিলিয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৯১১। মৃত্যু ৮৫৪ জনের। এর মধ্যে কলকাতার মোট সংক্রমিত ৮ হাজার ৩৬৮ জন। মারা গেছে ৪৫৭ জন।

গতকাল বিকেল পাঁচটায় কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গে অতিসংক্রমিত এলাকা বা ‘কনটেনমেন্ট জোনে’ নতুন করে সাত দিনের কড়া লকডাউন শুরু হয়েছে। কলকাতাসহ রাজ্যের ২০টি জেলার ৪৩৪টি অতিসংক্রমিত এলাকায় চলছে এ লকডাউন। পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ২৩ জেলা। বাকি তিনটি জেলা কোচবিহার, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম বর্ধমানে কোনো এলাকা কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়নি।

যে ৪৩৪ এলাকায় এ লকডাউন শুরু হয়েছে, সেগুলো হলো কলকাতায় ২৫টি, মালদহে ৪টি, উত্তর চব্বিশ পরগনার ৯৫টি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ৫৪টি, হাওড়ায় ৫৬টি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৩টি, হুগলিতে ২১টি, পূর্ব মেদিনীপুরে ১২টি, বাঁকুড়ায় ৯টি, পুরুলিয়ায় ১৩টি, পূর্ব বর্ধমানে ২১টি, জলপাইগুড়িতে ১১টি, আলীপুরদুয়ারে ৪টি, দার্জিলিংয়ে ৫টি, কালিম্পংয়ে ৩টি, উত্তর দিনাজপুরে ৩০টি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১০টি, মুর্শিদাবাদে ৪টি, নদীয়ায় ২৫টি ও বীরভূমে ৯টি।

লকডাউন এলাকার সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকছে। যানবাহন চলছে না। হাটবাজার বন্ধ। এসব এলাকায় বাইরের কেউ ঢুকতে পারছেন না। বেরও হতে পারছেন না। ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে প্রবেশ ও বের হওয়ার বিভিন্ন পথ। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশকে ফোন করলে তারাই এগিয়ে এসে সাহায্য করবে। প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে দেবে। ফলে, গতকাল সন্ধ্যায় নতুন করে এ লকডাউন শুরু হলে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে ওই সব কনটেনমেন্ট জোন।

তবে গতকাল পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ জেলায় নতুন করে কোনো সংক্রমণ বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। জেলাগুলো হলো কোচবিহার, আলীপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, কালিম্পং ও ঝাড়গ্রাম।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন