default-image

হাসপাতালে শয্যার সংকট, অক্সিজেন নিয়ে কালোবাজারি, করোনায় মৃতদের সৎকার নিয়েও জুলুম। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে করোনার সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় এসব সমস্যা এখন প্রকট। অক্সিজেন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার নিয়ম করেছে, করোনা পজিটিভের প্রমাণ না পেলে কাউকে অক্সিজেন দেওয়া হবে না। রাজ্যে করোনায় মৃত্যু বাড়ছে। আর মৃতদেহের সৎকারে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
 
গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতাসহ এই রাজ্যে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৪ হাজার ২৮১ জন। অগের দিনের চেয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন ৫৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় সংক্রমিত হয়েছেন ২ হাজার ৯৭০ জন। আর মারা গেছেন ২০ জন।

কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যার অভাব। কলকাতায় সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে করোনা শয্যা পূর্ণ রোগীতে। রোগীরা এসে নাম নথিভুক্ত করে ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে। হাসপাতাল থেকে খবর পেলে রোগীকে নিয়ে আসছেন হাসপাতালে। প্রতিটি হাসপাতালে সেই শয্যার জন্য অপেক্ষমাণ তালিকাও লম্বা হচ্ছে দিনে দিনে। অনেকে নাম লিখিয়ে বাড়িতে ফিরলেও আর ফিরে আসতে পারছেন না হাসপাতালে। বাড়িতেই পতিত হচ্ছেন মৃত্যুমুখে।

অনেকে বাড়িতে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলে তাঁর সৎকার করতেও বিলম্ব ঘটছে। গত তিন দিনে দেখা গেছে বাড়িতে মৃতদেহ ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পড়ে থাকার পর পৌরসভা থেকে লোক এসে নিয়ে যাচ্ছেন মৃতদেহকে।

বিজ্ঞাপন

আর এই মৃতদেহ সৎকারে শুরু হয়েছে শ্মশানবন্ধু ডোমদের অত্যাচার। একজন রোগী সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেলে সেই মৃতদেহকে শ্মশানে নিয়ে যেতে শববাহী গাড়ি হাঁকছে ১০ হাজার রুপি। আর মৃতদেহের মুখ পরিবারকে দেখাতে হাঁকছে ৫ হাজার রুপি। মুখাগ্নির জন্য দাবি করছে ৩ হাজার রুপি। আর সৎকারের পর মৃতের অস্থির জন্য ডোমরা দাবি করছে ২ হাজার রুপি। শুধু তা–ই নয়, বিভিন্ন কবরস্থান থেকে অভিযোগও আসছে নানা অছিলায় অর্থ আদায়ের। এসব জুলুম বন্ধের জন্য বিভিন্ন পৌরসভা এবার সক্রিয় হয়েছে।

এদিকে করোনার রোগীরা যাতে সব চিকিৎসা কেন্দ্রে অক্সিজেন পান, সে জন্য রাজ্য সরকার কড়া ভূমিকা নিয়েছে। গতকাল শনিবার রাজ্য সরকার এক নির্দেশে বলেছে, হাসপাতাল ছাড়া কেউ বাড়িতে চিকিৎসার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনতে গেলে তাঁকে যে রোগীর জন্য কিনতে হবে, তাঁর করোনার পজিটিভ রিপোর্ট দেখাতে হবে। কিন্তু যাঁরা করোনা আক্রান্ত নন, অথচ নিয়মিত অক্সিজেন প্রয়োজন হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য হবে না।

রাজ্য সরকার থেকে গতকাল এ কথাও বলা হয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে অক্সিজেনের অভাব নেই। প্রতিদিন এখন প্রয়োজন ২২৩ মেট্রিক টন অক্সিজেন। কিন্তু রাজ্যে প্রতিদিন উৎপাদন হয় ৫০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন। তবু অক্সিজেনের কালোবাজারি ঠেকাতে রাজ্য সরকার অক্সিজেন বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

default-image

রাজ্য সরকার গতকাল আরেক নির্দেশে বলেছে, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে ৬০ শতাংশ বেড করোনা রোগীর জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। আর করোনা রোগীর মৃত্যু হলে তাঁর সৎকারের সব ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার।

এখন পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, সরকারের নেওয়া বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে করোনা রোগীর বেড রয়েছে ২২ হাজার ৭৭৩টি। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৩ হাজার ৮০৭, সরকারের গৃহীত বেসরকারি হাসপাতালে ৫ হাজার ৫৫৩ এবং বেসরকারি হাসপাতালে বেড রয়েছে ৩ হাজার ৪৩৬টি। এ ছাড়া রয়েছে বিভিন্ন সেফ হোম ও স্যাটেলাইট সেন্টারে আরও করোনা বেড।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারও করোনা চিকিৎসায় আরও ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অক্সিজেন তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জামের আমদানি শুল্ক ও স্বাস্থ্য, সেসব মওকুফ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী তিন মাসের জন্য এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি করোনা চিকিৎসার সব ওষুধের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক ও সেসব মওকুফ করা হয়েছে।

গতকাল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়েছে, কলকাতাসহ এই রাজ্যে এখনো করোনার রাশ টানা যায়নি। এখন রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আছেন ৮১ হাজার ৩৮৫ জন। সব মিলিয়ে এখন এই রাজ্যে সংক্রমিত হলেন ৭ লাখ ২৮ হাজার ৬১ জন। আর মারা গেছেন ১০ হাজার ৮৮৪ জন।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণ দ্রুত বাড়ায় ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে কলকাতায় আসা নয়টি রাজ্যের বিমান যাত্রীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার। তাতে বলা হয়েছে ওই নয় রাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের কোভিড আরটিপিসিআর নেগেটিভ রিপোর্ট দেখিয়ে ঢুকতে হবে রাজ্যে। এই নয়টি রাজ্য হলো মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, কেরালা, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও ছত্রিশগড়।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন