default-image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব কমছে। বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যাও দ্রুত কমছে। দিনে দিনে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরছে। সংক্রমণের হার নিম্নমুখী দেখে চিকিৎসকদের মনেও জাগছে নতুন আশা।

এদিকে গতকাল রোববার রাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মারা গেছেন মাত্র দুজন।

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ঐতিহ্যবাহী কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭০০ শয্যা করা হয়েছিল। গত বছর জুলাইয়ে হাসপাতালটির ৯৪ শতাংশ শয্যাতেই রোগী ছিল। গত ডিসেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশে। আর চলতি ফেব্রুয়ারিতে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ১১ শতাংশে। অর্থাৎ শয্যার ৮৯ শতাংশই এখন ফাঁকা।

বিজ্ঞাপন

কলকাতার আরেক নামকরা হাসপাতাল এমআর বাঙুর হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার শয্যা ছিল ৭৩০টি। জুলাইয়ে এই শয্যার ৯৫ শতাংশে রোগী ছিল। ডিসেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। চলতি মাসে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশে। ফলে হাসপাতালটির ৯০ শতাংশ শয্যাই এখন ফাঁকা।

কলকাতার বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে করোনা রোগীর শয্যা রয়েছে ২৬৫টি। জুলাই মাসে রোগী ছিল ৯৫ শতাংশ শয্যায়। ডিসেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশে। চলতি মাসে সে সংখ্যা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৪ শতাংশে। অর্থাৎ ৯৬ শতাংশ শয্যা এখন ফাঁকা।

উত্তর ২৪ পরগনার সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার শয্যা ৫০০টি। জুলাইয়ে রোগীতে ভরা ছিল ৯৭ শতাংশ শয্যা। ডিসেম্বরে তা কমে হয় ৫০ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে তা ১২ শতাংশে। অর্থাৎ এখন ৮৮ শতাংশ শয্যায় রোগী নেই।

একইভাবে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল এএমআরআই বা আমরিতে করোনার শয্যা আছে ২৩৯টি। জুলাই মাসে এই শয্যার ১০০ শতাংশই রোগীতে পূর্ণ ছিল। ডিসেম্বরে তা কমে ৬৫ শতাংশে নেমে আসে। আর ফেব্রুয়ারিতে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশে। অর্থাৎ ৯০ শতাংশ শয্যাই এখন ফাঁকা।

এভাবে রোগী কমতে থাকায় এখন রাজ্যের অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল করোনা শয্যার সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেছেন, এই হাসপাতালের ৭০০টি কোভিড রোগীর শয্যায় এখন ৮০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে গতকাল রাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মারা গেছেন মাত্র দুজন। একজন কলকাতায় আর অন্যজন উত্তর ২৪ পরগনায়। এ ছাড়া একই সময়ে কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬ জন এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ৬৫ জন।

একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার মধ্যে পাঁচটি জেলায় করোনার কোনো সংক্রমণ ঘটেনি। এই পাঁচ জেলা হলো কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর ও ঝাড়গ্রাম। আর একজন করে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ জেলায়। এগুলো হলো উত্তর দিনাজপুর, নদীয়া, বীরভূম, বাঁকুড়া ও পূর্ব বর্ধমান। দুজন করে আক্রান্ত হয়েছেন তিন জেলায়—মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানে।

বিজ্ঞাপন

ওই ২৪ ঘণ্টায় এ রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯০ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৬২ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪ হাজার ৮৬ জন।

গতকাল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সূত্র বলেছে, দীর্ঘ ১১ মাস পর করোনামুক্ত হয়েছে কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের ৪ হাজার ১৪৭ জন কর্মকর্তা ও সাধারণ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হন। মারা গেছেন ২৩ জন কর্মকর্তা ও কর্মী। এখন কলকাতা পুলিশের সব সদস্য সুস্থ রয়েছেন।

করোনা মহামারি শুরুর পর এ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে এই রোগে মারা গেছেন ১০ হাজার ২৩২ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৭২ হাজার ৫৯৫ জন। তবে এ রাজ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রোগী মারা গেছেন কলকাতায়। তাঁদের সংখ্যা ৩ হাজার ৯০ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৭ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। এ জেলায় মারা গেছেন ২ হাজার ৪৯৭ জন। আক্রান্ত হন ১ লাখ ২২ হাজার ৫০২ জন। তৃতীয় স্থানে হাওড়া। এ জেলায় মারা গেছেন ১ হাজার ৪৪ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ হাজার ৬৫৪ জন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন