default-image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমে আসছে। জানুয়ারি মাস থেকেই এই রাজ্যে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার নিম্নমুখী।

গতকাল শুক্রবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তর মেডিকেল বুলেটিনে জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মারা গেছেন দুজন। এর একজন কলকাতায় আর অন্যজন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায়। গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ২৯৭ জন। অন্যদিকে গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মারা গেছেন ৭ জন, বৃহস্পতিবার তা কমে হয় ৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় এই রাজ্যে করোনা শনাক্তের হার ছিল শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ আর সুস্থতার হার ছিল ৯৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার মধ্যে একমাত্র ঝাড়গ্রাম জেলায় করোনায় কোনো সংক্রমণ বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আর একজন করে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, কালিম্পং ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। ২ জন করে সংক্রমিত হয়েছেন মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমান জেলায়। ৩ জন সংক্রমিত হয়েছেন পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায়।

সর্বশেষ হিসাবে বলা হয়েছে, কলকাতায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ৮০ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৯ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা। ওই জেলায় মারা গেছেন ২ হাজার ৪৮৬ জন আর আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩০ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে হাওড়া জেলা। এই জেলায় মারা গেছেন ১ হাজার ৪৩ জন আর আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৭৩ জন।

ভারতে ৫ জনের মধ্যে ১ জন করোনায় আক্রান্ত

ভারতের আইসিএমআর বা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ পরিচালিত সেরোলজিক্যাল সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে—এখনো সম্ভাবনা রয়েছে মানুষের একটি অংশের করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের।

গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আইসিএমআর এই সেরো সমীক্ষা চালায়।

এই সমীক্ষা চলে ভারতের ২১টি রাজ্যের ৭০টি জেলার ৭০০–এর বেশি এলাকায়। ১০ বছরের বেশি বয়সীদের ওপর চালানো হয় এই সেরো সমীক্ষা। এটি ছিল আইসিএমআরের তৃতীয় সমীক্ষা। এর আগে দুটি সমীক্ষা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার তৃতীয় সমীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এই তৃতীয় সমীক্ষা চালানো হয় ২৮ হাজার ৫৮৯ জন মানুষের ওপর। তাঁদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ২১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় সেরো পজিটিভ। আর ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৫ দশমিক ৩ শতাংশের শরীরে মিলেছে সেরো পজিটিভ।

এদিকে আইসিএমআরের শীর্ষ কর্মকর্তা বলরাম ভার্গব বলেছেন, ভারতের ২১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। তিনি এ কথাও বলেছেন, গ্রাম থেকে শহরাঞ্চলের মানুষের করোনার সংক্রমণ বেশি। গ্রামে যেখানে এই সংক্রমণের হার ১৯ দশমিক ১ শতাংশ, শহরে সেখানে এই হার ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ। তিনি আরও বলেছেন, সেরো রিপোর্ট বেশি পজিটিভ দেখা গেছে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন