default-image

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বছরের শুরু থেকেই কমে আসছে করোনাভাইরাসে (কোভিড–১৯) সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। সংক্রমণের শতকরা হার নেমে এসেছে ১–এর অঙ্কে।

রেখাচিত্রে করোনার নিম্নমুখী এই প্রবণতা দেখে স্বস্তি ফিরছে রাজ্যবাসীর মনে। কেউ কেউ মনে করছেন, এবার এই রাজ্য থেকেই করোনা বিদায়ের সংকেত দিচ্ছে।

গতকাল বুধবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩৪ জন। মারা গেছেন আটজন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩৮৬ জন। যদিও ২০ জানুয়ারি রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে কম। সেদিন মারা যান ছয়জন। তবুও এখন প্রতিদিনই সংক্রমণের হার কমে আসতে দেখা যাচ্ছে।

গতকাল করোনার নমুনা পরীক্ষার হারও রাজ্যে কমে গেছে। গত রোববার রাজ্যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ২৫ হাজার ২০৭ জনের। সোমবার পরীক্ষা করা হয় ১৮ হাজার ২৪৩ জনের। গতকাল সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৬০৯।

গতকাল রাতে স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত এ রাজ্যে করোনায় মারা গেছেন ১০ হাজার ১৩৯ জন। আক্রান্ত ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৪ জন। আর সুস্থ ৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৭ জন। গতকাল রাজ্যে সুস্থতার হার বেড়ে দাঁড়ায় ৯৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। পাশাপাশি সংক্রমণের হার কমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৩৩ শতাংশে। এখন বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫ হাজার ৮৬৮ জন। অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীর অনেক শয্যা এখন ফাঁকা রয়েছে। সেভাবে আর রোগী আসছেন না বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও।

বিজ্ঞাপন

বুলেটিনে আরও বলা হয়, করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেশি ছিল কলকাতায়। এরপর পাশের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায়। এখন কলকাতা ও উত্তর চব্বিশ পরগনায়ও কমে আসছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। কলকাতায় গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬২ জন আর উত্তর চব্বিশ পরগনায় ৫২ জন। দুই জেলায় এদিন মারা গেছেন দুজন। মহামারি শুরুর পর এ পর্যন্ত কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৬৯ জন ও উত্তর চব্বিশ পরগনায় ১ লাখ ২১ হাজার ৪৪৪ জন। এই সময়ের ভেতরে কলকাতায় মারা গেছেন ৩ হাজার ৬৬ জন। আর উত্তর চব্বিশ পরগনায় ২ হাজার ৪৬০ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে হাওড়া। এ জেলায় ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ হাজার ৪৮২ জন। মারা গেছেন ১ হাজার ৪০ জন।

একই সময়ে রাজ্যের ২৩ জেলার মধ্যে আলীপুরদুয়ার, কালিম্পং, বীরভূম, পুরুলিয়া,পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে একজন করে আক্রান্ত হয়েছেন। দুজন করে আক্রান্ত হয়েছেন কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও পূর্ব বর্ধমানে। তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন জলপাইগুড়িতে। এসব চিত্রে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সংক্রমণ কমার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে করোনা প্রতিরোধে জোরকদমে শুরু হয়েছে টিকা প্রদান কার্যক্রম। রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে টিকা। করোনা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার লড়াইয়ে সম্মুখযোদ্ধার ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিদের পর এখন শুরু হচ্ছে প্রবীণদের টিকাদান। তালিকা তৈরিও শুরু হয়েছে তাঁদের।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন