default-image

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের তৃতীয় দফা ভোট গ্রহণ চলছে। আজ মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি জেলার ৩১টি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এই তিন জেলা তৃণমূল-অধ্যুষিত হওয়ায় বিজেপির জন্য আজ কঠিন পরীক্ষা। ভাগ্য নির্ধারণ হবে ১০ হেভিওয়েট প্রার্থীরও।  

আজ স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৬টি, হাওড়ার ৭টি এবং হুগলি জেলার ৮টি আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। এই ৩১টি আসনে সর্বশেষ ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ৩০টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল আর একটিতে কংগ্রেস। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এসব আসনের মধ্যে ৮টিতে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থীরা।

রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ৩০টি এবং দ্বিতীয় দফায়ও ৩০টি আসনে ভোট নেওয়া হয়েছে। আজ ৩১টি আসনের সব কটি ধরে রাখা লক্ষ্য তৃণমূলের। আর বিজেপি চায় তৃণমূলের ঘরে হানা দিয়ে আসনগুলোতে ভাগ বসাতে।

অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে এলাকাগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটকেন্দ্রে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। আজ ১০ হাজার ৮৭১টি কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন ৭৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন ভোটার। ৩১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২০৫ জন প্রার্থী। নারী প্রার্থী মাত্র ১৩ জন। ভোটকেন্দ্র এলাকায় নিরাপত্তার জন্য ৬২ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। আর রাজ্য পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে ২০ হাজার ৩১৮ জন।

বিজ্ঞাপন

আজ এই ৩১ আসনের ১০ জন হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। এই ১০ তারকা প্রার্থী হলেন: বিধানসভার সাবেক স্পিকার তৃণমূলের বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের চিকিৎসক সংগঠনের প্রধান ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী নির্মল মাজি। আরেক তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডল খাঁও লড়ছেন আজ, স্বামী বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁর সঙ্গে বিবাদ জড়িয়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি।

বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন সাবেক রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত, টালিউড তারকা অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী ও তনুশ্রী চক্রবর্তী। কংগ্রেসের রয়েছেন অমিতাভ চক্রবর্তী ও অসিত মিত্র। আর সিপিএমের রয়েছেন প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা কান্তি গাঙ্গুলি ও আরএসপির সাবেক মন্ত্রী সুভাষ নস্কর।

এদিকে রাজ্যে হঠাৎ করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থার্মাল স্ক্রিনিং করে ভোটকেন্দ্রে ঢুকছেন ভোটাররা, করতে হচ্ছে হাত স্যানিটাইজও। ভোটারদের গ্লাভস-মাস্ক সরবরাহ করেছে কর্তৃপক্ষ। শারীরিক অক্ষম ও প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য রাখা হয়েছে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন