বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। শুরু হয় পরাজিতদের ওপর জয়ীদের হামলা। মূলত শাসক দলের নেতা–কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হন বিরোধীরা। বিজয়োল্লাসে প্রতিঘাত করা হয় বিরোধী সমর্থকদের। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক হিংসা। গ্রামছাড়া হন বহু বিরোধী নেতা–কর্মীসহ তাঁদের পরিবার। বিরোধী দলের নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের বাড়িঘর, দোকানপাটে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়। প্রাণের ভয়ে বহু বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। আত্মগোপন করতে হয়। পুলিশও সরকারি দলের এই সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।

শুধু তা–ই নয়, এই ভোট–পরবর্তী হিংসায় গোটা রাজ্যে খুনের ঘটনা ঘটে। লুটপাট থেকে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে। বাড়িঘর–দোকানপাটে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বহু গ্রামবাসীকে প্রাণের ভয়ে এলাকা ছাড়ারও ঘটনা ঘটে।

এরপর ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ভোট–পরবর্তী সহিংসতার বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য একটি তদন্ত দল দিল্লি থেকে পাঠায় পশ্চিমবঙ্গে। মূলত ভোট–পরবর্তী হিংসা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে কয়েকটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গড়া পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর ডিভিশন বেঞ্চ ভোট–পরবর্তী হিংসার তদন্ত করে একটি রিপোর্ট জমা দিতে বলেন। সেই রিপোর্ট মানবাধিকার কমিশন বৃহস্পতিবার পেশ করে কলকাতা হাইকোর্টে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকা পরিদর্শন করেন। কথা বলেন ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সঙ্গে। ছুটেও যান নিহত পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আর বাড়িঘরও পরিদর্শন করেন তাঁরা।

কমিশনের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে এখন আইনের শাসনের পরিবর্তে শাসকের আইন চলছে। দুই মাস ধরে চলছে খুন, ধর্ষণ, বিরোধীদলীয় বহু নেতা–সমর্থককে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা। এই হিংসা অবিলম্বে বন্ধ না হলে সামনে দুর্দিন আসতে পারে। গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যেতে পারে। তাই এই হিংসা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এসব ঘটনার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে। বিচার করতে হবে ফাস্টট্রাক আদালতে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাঁদের বাড়িঘর নির্মাণ করে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে এসব ঘটনার বিচারের জন্য বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে। আর এসব ঘটনার সাক্ষীদেরও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

কমিশনের প্রতিবেদনের ভোট–পরবর্তী সহিংসতায় জড়িত থাকার জন্য কমিশন শতাধিক সরকারি দলের নেতা–কর্মীর নাম উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে মন্ত্রী, বিধায়ক, কাউন্সিলরসহ তৃণমূলের ১০ জন বড় মাপের নেতার নামও রয়েছে। তাঁরা হলেন মন্ত্রী জ্যোতির্ময় মল্লিক, বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, বিধায়ক খোকন দাস, বিধায়ক শওকত মোল্লা, সাবেক বিধায়ক উদয়ন গুহ, মমতার নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান, কাউন্সিলর জীবন সাহা প্রমুখ।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মানবাধিকার কমিশন বিকৃত প্রতিবেদন পেশ করেছে। বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশে এত ঘটনা ঘটে, সেখানে কতগুলো কমিশন গড়া হয়েছে? যা হয়নি এ রাজ্যে, তা নিয়ে এখন মিথ্যা প্রচার চলছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন