পশ্চিমবঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে ৭ দফা নির্দেশ জারি

বিজ্ঞাপন
default-image

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচের বিলে লাগাম টানতে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন গতকাল রোববার সাত দফা নির্দেশ জারি করেছে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় লাগামহীন বিল নিচ্ছে হাসপাতালগুলো। সরকারি নির্দেশ অনেকটাই উপেক্ষা করছে তারা। সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার খরচ তেমন না হলেও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচের নামে পকেট কাটা শুরু হয়েছে। এই বিল মেটাতে নিঃস্ব অনেক রোগীর পরিবার।

এ নিয়ে প্রতিদিনই অভিযোগ আসছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর ও রাজ্য সরকারের কাছে। চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য সরকারও। রাজ্য সরকার বেসরকারি হাসপাতালের খরচের রাশ এখনো টানতে পারছে না। নির্দেশ দিলেও তা মানছে না বেসরকারি হাসপাতালগুলো।

করোনা সন্দেহভাজন একজন মানুষের সোয়াব টেস্ট করতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল বিল করেছে দেড় লাখ রুপি। ছয় দিন হাসপাতালের বেডে রেখে ওই রোগীর টেস্ট করা হলেও দুবারই আসে নেগেটিভ। তবু একটি মধ্যশ্রেণির বেসরকারি হাসপাতাল বিল করেছে দেড় লাখ রুপির ওপর। আবার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি একজন করোনা রোগীর কাছ থেকে ১০ লাখ থেকে ২৭ লাখ রুপি পর্যন্ত বিল করেছে। আর এই বিল মেটাতে গিয়ে অনেকেই নিঃস্ব।

কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক একজন নারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সীতাংশু শেখর পাঁজা (৬৫) তাঁর নিজ এলাকা দমদমের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন করোনা নিয়ে। তাঁর বিল আসে ২৪ লাখ রুপি। সেখান থেকে কমিয়ে শেষ পর্যন্ত করা হয় ১৬ লাখ রুপি। ওই চিকিৎসকের পরিবার শেষ পর্যন্ত বিল মিটিয়ে তাঁকে নিয়ে আসেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দমদমের এই চিকিৎসক শেষ পর্যন্ত গত শনিবার মারা যান কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই।

তাই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচের বিলে লাগাম টানতে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন গতকাল সাত দফা এক নির্দেশিকা জারি করে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোভিড সুরক্ষা বাবদ পিপিইসহ যাবতীয় সামগ্রীর খরচ এক হাজার টাকার মধ্যে রাখতে হবে প্রতিদিন। সুরক্ষার নামে হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৫০ রুপির বেশি নিতে পারবে না। রোগীর সঙ্গে একজন আত্মীয় থাকলে আরও ৫০ রুপি নেওয়া যেতে পারে। চেষ্টা করতে হবে সস্তার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্দিষ্ট দামি ব্রান্ডের অ্যান্টিবায়োটিক নয়। বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি ১৫ রুপির বেশি যাতায়াত খরচ নেওয়া যাবে না। করোনা নমুনা পরীক্ষার খরচ ২ হাজার ২৫০ রুপির বেশি হতে পারবে না। জোর করে রোগীকে ভর্তি করে রেখে দেওয়া যাবে না। ছুটি দেওয়া সত্ত্বেও রোগী যেতে না চাইলে তাঁকে সেফ হোম বা স্যাটেলাইট সেন্টারে স্থানান্তর করতে হবে।

অমিত শাহের করোনায় পশ্চিমবঙ্গের সাংসদদের কোয়ারেন্টিন
করোনায় সংক্রমিত ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকাল রোববার বিকেলে ভর্তি হয়েছেন নয়াদিল্লির কাছে গুরুগ্রামের বেসরকারি মেদান্ত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। গতকাল বিকেলে অমিত শাহ নিজেই টুইট করে জানান, তিনি করোনায় আক্রান্ত। তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ। ইতিমধ্যে যাঁরা তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদের তিনি সেলফ কোয়ারেন্টিনে থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁদের অন্তত সাত দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকার অনুরোধ করেছেন।

অমিত শাহের অনুরোধের জেরে ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত, নিশীথ প্রামাণিক, সৌমিত্র খাঁ, জগন্নাথ সরকার, অর্জুন সিংহসহ কয়েকজন বিজেপি নেতা সেলফ কোয়ারেন্টিনে গেছেন। তাঁরা এবার নিজেদের পরীক্ষা করিয়ে নেবেন তাঁরা করোনায় আক্রান্ত কি না।

এদিকে অমিত শাহের করোনায় আক্রমণের খবর পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘শুনলাম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজির কোভিড পজিটিভ। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন