default-image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়লেও এখনই লকডাউন দেওয়ার কথা ভাবছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনা রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরে বসে কাজের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া গ্রীষ্মকালীন ছুটি এগিয়ে এনে মঙ্গলবার থেকে রাজ্যের সব বিদ্যালয় বন্ধ করা হচ্ছে।  

সোমবার দুপুরে মালদহে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করোনা সংক্রমণ সামাল দিতে পদক্ষেপ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লকডাউনই কি করোনা নিয়ন্ত্রণ করবে? আমরা এখনই লকডাউন দিচ্ছি না। লকডাউন সমাধানের পথ নয়। রাজ্যে পর্যাপ্ত টিকা নেই। লকডাউন করলে কি করোনা চলে যাবে?’

‘ওয়ার্ক ফ্রম হোমে’ গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি সব অফিসে কর্মীসংখ্যা ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে।

করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে রাজ্যবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সরকার এই করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরকারি হাসপাতালে সাড়ে ৪ হাজার করোনা বেড বাড়ানো হয়েছে। ২০০ সেফ হোমে ১১ হাজার করোনা বেড প্রস্তুত রাখা রয়েছে।’
করোনার হালকা উপসর্গ দেখা দিলে তাঁকে সেফ হোমে আর গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের মার্চ-এপ্রিলে রাজ্যে করোনার সংক্রমণ চূড়ায় পৌঁছেছিল। তখন রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১০ হাজার করোনা শয্যার ব্যবস্থা করেছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। এরপর রাজ্যের ২৩ জেলায় করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য ২০০টি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেফ হোম গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু গত মাসে করোনার সংক্রমণ কমে আসায় এবং রোগী কমে যাওয়ায় ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল সেফ হোমগুলো।

দুই সপ্তাহ ধরে করোনার সংক্রমণ আবার তীব্র আকার ধারণ করায় রাজ্য সরকার সেফ হোমগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আবার চালু করা হয় ৭ হাজার ৫৬২টি করোনা শয্যা।

রোববার রাতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে বিগত ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৪১৯ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত এবং ২৮ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তার আগের দিন শনাক্ত হয় ৭ হাজার ৭১৩ জনের, আর প্রাণ হারান ৩৪ জন। পশ্চিমবঙ্গে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, আর মোট মারা গেছেন ১০ হাজার ৫৬৮ জন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি ১০০টি এবং বেসরকারি ৫৮টি হাসপাতালকে নতুন করে করোনা হাসপাতালে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া রাজ্যে বিভিন্ন হোটেলকে সেফ হোম হিসেবে করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। রাজ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহারের জন্য ৪০০ অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে।

মমতা বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজ্য সরকার একটি টাস্কফোর্স গড়েছে। তারাই এখন এ বিষয়ে নজর রাখবে।

রাজ্যে এখনো করোনা টিকার অভাব রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বহিরাগতরা এই রাজ্যে এসে করোনা ছড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সবার করোনার নমুনা নিয়ে আরটি–পিসিআর পরীক্ষার দাবি তুলেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন