default-image

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের দখল করা নিজেদের দলীয় অফিস উদ্ধার করতে শুরু করেছে বাম দলগুলো। অনেক জায়গায় বিজেপির কর্মীরা এসে দখল করা অফিসের চাবি তৃণমূলের কাছ থেকে এনে তুলে দিয়েছেন সিপিএমের কর্মীদের হাতে।

২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায় আসে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যজুড়ে বইতে থাকে সিপিএম বা বামবিরোধী তৎপরতা। চলে অক্রোশ। তৃণমূলের এই আক্রোশের জেরে পশ্চিমবঙ্গের বাম দলের বহু পার্টি অফিস দখল করে নেয় তৃণমূল।

তৃণমূলের ক্ষমতার এই আট বছরে বাম দলের বেশকিছু পার্টি অফিস বামরা উদ্ধার করলেও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাম দলের বহু পার্টি অফিস তৃণমূলের দখলে থাকে। একই ঘটনা হয়েছিল ২০১৬ সালের সর্বশেষ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পরও। সে সময় বেশকিছু পার্টি অফিস দখল করে তৃণমূল। বাম দলের এসব পার্টি দপ্তরে বাম দলের পতাকা নামিয়ে ওড়ানো হয় তৃণমূলের পতাকা।

এদিকে এবারের লোকসভা নির্বাচনে একটি আসনও পায়নি বামরা। একই সঙ্গে ভরাডুবি হয় তৃণমূলেরও। গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ভোট গণনার পর তৃণমূল হেরে গেলে এই সুযোগ নেয় সিপিএম এবং বাম দলের অন্য শরিকেরা। তারা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের হাতে দখল হওয়া বাম দলের অন্তত ছোট–বড় ১৬৯টি পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করে। এ সময় তৃণমূলের নেতারা আর বাধা দিতে সাহস পাননি। বাম দল ওই সব পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করে সেখানে লাগিয়ে দিয়েছে নিজেদের দলের পতাকা।

গতকাল শনিবার এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয় নিয়ে দলীয় পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলেছেন, এই নির্বাচনের পর তৃণমূলের ২০০টি দপ্তর দখল করে নেওয়া হয়েছে। এসব দখল করা দপ্তর পুনরুদ্ধারের কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার সিপিএমের হারানো অফিস দখলে সহযোগিতার পাশাপাশি কিছু জায়গায় বিজেপি নিজেরাই তৃণমূলের অফিস দখল করে নিয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরে তৃণমূলের অফিসটি দখল করার ঘটনা। এই বীজপুর বিধানসভা আসনের বিধায়ক বিজেপির নেতা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। শুক্রবার এই শুভ্রাংশুকে দলবিরোধী কাজের জন্য ছয় বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। বিজেপি বীজপুরের তৃণমূলের দপ্তর দখল করে সেখানে তুলে দিয়েছে নিজেদের পতাকা। অফিসটি গেরুয়া রঙে সাজানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন