default-image

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গত তিন দিনে এই রাজ্যের চারজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রার্থী ও বিধায়কের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা। রাজ্যে করোনার টিকার অভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালেও শয্যা মিলছে না করোনা রোগীর।

করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩৪ জন। সংক্রমিত হয়েছে ৭ হাজার ৭১৩ জন।
গতকাল শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের সিপিএম জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও সংযুক্ত মোর্চার আহ্বায়ক নির্মল জানার মৃত্যু হয় করোনায়। কয়েক দিন ধরে হালকা কাশি ও জ্বরে ভুগছিলেন নির্মল জানা। করোনার নমুনা পরীক্ষা হলে পজিটিভ রিপোর্ট আসে। গতকাল তিনি হাসপাতালে মারা যান।

গতকালই মারা যান মুরারই তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক আবদুর রহমান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

গত শুক্রবার করোনায় মারা যান মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুরের আরএসপি প্রার্থী প্রদীপ নন্দী।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিধানসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কংগ্রেস প্রার্থী রেজাউল হক ওরফে মন্টু বিশ্বাস করোনায় আক্রান্ত হয়ে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। তিনি মুর্শিদাবাদের শামশেরগঞ্জ বিধানসভা আসনে কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় কলকাতায়।

বিজ্ঞাপন

রাজ্যজুড়ে করোনা ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় সিপিএম ঘোষণা দিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের বড় কর্মসূচিতে তারা রাশ টেনেছে। শুরু করেছে ছোটখাটো বৈঠক ও সভা-সমিতির মাধ্যমে ভোটের প্রচার। রাজ্য বিধানসভার পাঁচ দফার নির্বাচনে ইতিমধ্যে ১৭৭ আসনের ভোট নেওয়া হয়েছে। আর এখন পরবর্তী তিন দফার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ বাকি রয়েছে ১১৪টি আসনে। রাজ্যে রয়েছে বিধানসভার ২৯৪টি আসন।

এদিকে রাজ্যজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে করোনা–শয্যার অভাব দেখা দিয়েছে।

গত বছরের মার্চ-এপ্রিলে করোনার পিক সময়ে এই রাজ্যে স্বাস্থ্য দপ্তর রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১০ হাজার করোনা শয্যার ব্যবস্থা করেছিল। এরপরই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর রাজ্যের ২৩ জেলায় করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য ২০০টি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেফ হোম গড়েছিল। কিন্তু গত মাসে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় এবং রোগী কমে যাওয়ায় ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল সেফ হোমগুলো। দুই সপ্তাহ ধরে করোনা তীব্র আকার ধারণ করায় রাজ্য সরকার সেফ হোমগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এখন এই রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ফের চালু হয়েছে ৭ হাজার ৫৬২টি করোনা শয্যা। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ করোনা–শয্যা বাড়ানোর।

গতকাল রাতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় মারা গেছে ১০ জন। উত্তর ২৪ পরগনায় ৮ জন এবং মুর্শিদাবাদে ৫ জন। এ নিয়ে এই রাজ্যে মোট মারা গেছেন ১০ হাজার ৫৪০ জন। মোট সংক্রমিত হয়েছে ৬ লাখ ৫১ হাজার ৫০৮। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৪২৬ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬৮ জন। এখন গোটা রাজ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৫ হাজার ৩০০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রাজ্যে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৭১ জনের। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯৭ লাখ ৬২ হাজার ৮৬ জনের।

এখন অবশ্য রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন ৪৫ হাজার ৩০০ জন। ২ এপ্রিল এই সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৬৯২।

গতকালের সর্বশেষ রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। ১২ এপ্রিল এই হার ছিল ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন