গ্রামের লোকজনের কটূক্তি সইতে না পেরে একসঙ্গে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে পাঁচ কিশোরী। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রামের জামবনীর অরো গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কীটনাশক পান করা অপর এক কিশোরী প্রাণে রক্ষা পায়। তাকে ঝাড়গ্রামের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই গ্রামের ছয় কিশোরীর মধ্যে বেশ সখ্য ছিল। তারা পরস্পর আত্মীয়ও। চলাফেলা করত একসঙ্গে। এই একসঙ্গে চলাকে মেনে নিতে পারেনি গ্রামের কেউ কেউ। তাদের বিরুদ্ধে ছড়ানো হয় অপবাদ। অভিযোগ তোলে তারা সমকামী। রাস্তাঘাটেও কটূক্তি করে। এই কটূক্তি সইতে না পেরে গত রোববার তারা কীটনাশক পান করে আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী তারা জোগাড় করে কীটনাশক।
সোমবার সন্ধ্যায় তারা গ্রামের একটি ফাঁকা মাঠে গিয়ে পরস্পরের হাত ওড়না দিয়ে বেঁধে কীটনাশক পান করে। কিন্তু গুরুতর আহত পূজার ভাগে কীটনাশক কম পড়ায় পূজা বেঁচে গিয়ে গ্রামের মানুষজনকে জানায়। গ্রামের লোকজন এসে মুমূর্ষু পাঁচ কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মারা যাওয়া তিন কিশোরী হলো বেবি নায়েক (২০), নমিতা নায়েক (১৬), সরস্বতী নায়েক (১৫), বুডু নায়েক (১৪) ও পালং নায়েক (২০)। বেঁচে যায় পূজা নায়েক (১৪)। আত্মহননকারীরা একসঙ্গে চাষের জমিতে কাজ করত।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন