default-image

ভারতে চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গণনা শুরু হবে রোববার সকাল ৮টা থেকে। এই পাঁচ এলাকার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বাদে বাকি এলাকাগুলোর বুথফেরত জরিপে অনেকটাই আভাস পাওয়া গেছে, কোন কোন দল ওই সব এলাকায় সরকার গঠন করতে চলেছে। তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইটা সবচেয়ে জমেছিল যে পশ্চিমবঙ্গে, সেখানকার বুথফেরত কোনো জরিপই স্পষ্ট আভাস দিতে পারেনি। কাজেই এই রাজ্যের ভোটের ফলাফলের দিকে নজর থাকবে অপেক্ষাকৃত বেশি।

এবার যে চার রাজ্যে ভোট হয়েছে সেগুলো হলো পূর্ব ভারতে পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম এবং দক্ষিণ ভারতে তামিলনাড়ু ও কেরালা। এ ছাড়া দক্ষিণ ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতেও ভোট হয়েছে। এর মধ্যে বুথফেরত বেশির ভাগ জরিপের তথ্যমতে, তামিলনাড়ুতে ক্ষমতায় আসতে চলেছে এম কে স্টালিনের দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) নেতৃত্বাধীন জোট। কেরালায় বামপন্থীদের এবং আসামে বিজেপি জোটের ক্ষমতায় টিকে থাকার আভাসও পাওয়া গেছে। এদিকে পদুচেরিতে বিজেপি-কংগ্রেসের লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। তবে বুথফেরত জরিপ বলছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটই সরকার গঠন করবে এখানে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে স্পষ্ট কোনো আভাস দিতে পারেনি কোনো বুথফেরত জরিপই।

বিজ্ঞাপন

এবার যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট হয়েছে, সেসব এলাকায় মোটের ওপর ভারতের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের বাস। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখানে ভোটও রয়েছে সবচেয়ে বেশি। এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার ৭ কোটি ৩‌৪ লাখ ৭ হাজার ৮৩২ জন। তামিলনাড়ুতে ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ২৮ লাখ, কেরালায় ২ কোটি ৬৭ লাখ, আর আসামে ২ কোটি ৩২ লাখ। আশা করা হচ্ছে, এসব রাজ্যে সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরুর পর মোটামুটিভাবে দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে বোঝা যাবে, ফলাফল কী হতে চলেছে।

default-image

গত ২৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট শুরু হয়ে তা শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। আট দফায় ভোট পড়ার অন্তর্বর্তী গড় ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এখনো জানায়নি, ভোট পড়ার চূড়ান্ত হার কত। তবে ভোটের হারের অন্তর্বর্তী যে হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বলা যায়, অন্য কোনো রাজ্যেই এত ভোট পড়েনি। পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতার মাত্রাও অন্যবারের তুলনায় ছিল অনেক বেশি। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রায় মরিয়া হয়ে লড়াইয়ে নেমেছিল এই নির্বাচনে। ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসও নেমেছিল কোমর বেঁধে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় বারবার পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। অমিত শাহ ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ১২ দফায় পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে জিততে যে টাকা খরচ করেছে, তাও অতীতের নির্বাচনে দেখা যায়নি। এর জন্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন, বিজেপি রাজ্যে টাকা ও করোনা ছড়াচ্ছে। কিন্তু এর ফলে বিজেপি লাভবান হয়েছে বলে দলের নেতা-কর্মীরা মনে করেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিজেপি অভিযোগ করেছে যে তারা অসংখ্য স্থানীয় নেতা ও কর্মীকে খুন করেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অমিত শাহ বলেছিলেন, ১৩০-এরও বেশি বিজেপি কর্মীকে খুন করেছে তৃণমূল। তৃণমূল বলেছে, এই মৃত্যুর মিছিল বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। আজকের ফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে আরও সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

default-image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯২টিতে ভোট হয়েছে এই ৮ দফায়। প্রার্থী মারা যাওয়ায় দুটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে। মোট ১০৮টি গণনা কেন্দ্রে ভোট গণনা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য। গণনাকেন্দ্রে রাজ্য পুলিশও থাকবে।

করোনার প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণনা হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। বিভিন্ন দলে যেসব রাজনৈতিক কর্মী ভোট গণনা কেন্দ্রে ঢুকবেন, তাঁদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এসবের ফলে এবারের ভোট গণনা অন্যবারের তুলনায় কিছুটা ধীরে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রথম তিন থেকে পাঁচ রাউন্ডের মধ্যেই ধারণা পাওয়া যাবে, কে কোথায় এগিয়ে। সাধারণত একেকটি রাউন্ডে ১৪টি করে বৈদ্যুতিক ভোটযন্ত্র গোনা হয়। তবে এবারে এক এক রাউন্ডে গোনা হবে সাতটি করে ভোটযন্ত্র। এদিকে ভোট গণনা কেন্দ্রে গণনাকক্ষের সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে। করোনা ঠেকাতেই এসব পদক্ষেপ।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন