default-image

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে ব্যাপকহারে। বাড়ছে মৃত্যুও। রাজ্যজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে করোনার শয্যার অভাব দেখা দিয়েছে।

রাজ্যে দুই সপ্তাহ ধরে দ্রুত বাড়ছে করোনা। ইতিমধ্যে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে চার দফায় ভোট গ্রহণ হয়েছে। আরও চার দফা বাকি আছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই হাজারো মানুষের ভিড় জমছে রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ ও রোড শোতে। আর এসব ভিড়ে দ্রুত করোনা বাড়ছে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে রাজ্যজুড়ে।

গতকাল রোববার রাতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে করোনায় সংক্রমিত হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৮ জন। মারা গেছেন ১০ জন। এর মধ্যে কলকাতায় মারা গেছেন ৩ জন। উত্তর ২৪ পরগনায় ৫ জন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বীরভূম জেলায় ১ জন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে এই রাজ্যে মোট মারা গেছেন ১০ হাজার ৪০০ জন। সংক্রমিত হয়েছেন ৬ লাখ ১৪ হাজার ৮৯৬ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৭৩ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৮০ হাজার ৫১৫ জন। এখন গোটা রাজ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৩ হাজার ৯৮১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রাজ্যে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪০ হাজার ৩৭২ জনের। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯৫ লাখ ১০ হাজার ৪৮ জনের।

গত বছরের মার্চ-এপ্রিলে করোনা সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করার সময় রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১০ হাজার করোনা শয্যার ব্যবস্থা করেছিল। এরপরই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর রাজ্যের ২৩ জেলায় করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য ২০০টি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেফ হোম গড়েছিল। কিন্তু গত মাসে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল সেফ হোমগুলো। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে করোনা তীব্র আকার ধারণ করায় রাজ্য সরকার ফের সেফ হোমগুলো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আগে যে করোনা শয্যা ছিল, সেই শয্যা আবার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

এখন এই রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ফের চালু হয়েছে ৭ হাজার ৫৬২টি করোনা শয্যা। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ করোনা শয্যা বাড়ানোর।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে, এখন রাজ্যের অধিকাংশ নামী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে করোনার শয্যার তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ হাসপাতালে এখন করোনার শয্যা ফাঁকা নেই। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সূত্রে বলা হয়েছে, এখন কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ৪৪১টি করোনা শয্যার মধ্যে কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। তবে ঢাকুয়ার আমরি হাসপাতালের ৮৯টি শয্যার মধ্যে ৮টি, বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের ১৬৫টি শয্যার মধ্যে ২৬টি করোনা শয্যা গতকাল পর্যন্ত ফাঁকা ছিল।

রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন ২৩ হাজার ৯৮১ জন। ২ এপ্রিল এই সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৬৯২। গতকালের সর্বশেষ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন