default-image

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার ষষ্ঠ দফার ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজকের এই নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, চলচ্চিত্র তারকা ও সমাজকর্মীরা লড়ছেন।

ইতিমধ্যে একাধিক দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ অবস্থায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস শেষ তিন দফার নির্বাচন এক দফায় করার আবেদন জানালেও তাতে সায় দেয়নি নির্বাচন কমিশন।

বিধানসভার ২৯৪ আসনে আট দফায় ভোট গ্রহণ হচ্ছে। আজ ভোট হচ্ছে কড়া নিরাপত্তায় এবং করোনার বিধি মেনে। এ নির্বাচনের মধ্যেই করোনার কোপে পড়েছেন কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী, তৃণমূল নেতা ও প্রার্থী মদন মিত্র, সিপিএম নেতা ও প্রার্থী সুজন চক্রবর্তীসহ অনেক নেতা।

আজ ষষ্ঠ দফায় ভোট নেওয়া হচ্ছে ৪ জেলার ৪৩ আসনে। জেলা চারটি হলো উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান ও উত্তর দিনাজপুর। এর মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭, উত্তর দিনাজপুর ও নদীয়ায় ৯টি করে এবং পূর্ব বর্ধমানে ৮টি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এই ৪৩ আসনের প্রার্থী ৩০৬ জন। আজ অবশ্য রুপালি পর্দার তারকাদের চেয়ে নেতায়-নেতায় লড়াই জোরদার হয়েছে।

আজ সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে এই রাজ্যের ষষ্ঠ দফার ভোট গ্রহণ। ভোট নেওয়া হচ্ছে ১৪ হাজার ৪৮০ কেন্দ্রে। এর মধ্যে স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্র ১২ হাজার ৩৮৮টি। ভোটার ১ কোটি ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৫০ জন। এর মধ্যে আবার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৫৬ জন।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ৪৩টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ৩২টি আসন। সিপিএম ৪টি আর বিজেপি কোনো আসন পায়নি। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আলোকে তৃণমূল পেয়েছিল ২৪টি, বিজেপি ১৯টি এবং কংগ্রেস ও সিপিএম কোনো আসন পায়নি।

ষষ্ঠ দফায় তৃণমূল ও বিজেপি ৪৩টি করে আসনে লড়লেও সিপিএম লড়ছে ২৩ এবং কংগ্রেস লড়ছে ১২টি আসনে। এর আগে প্রথম দফায় ২৭ মার্চ ৩০টি, দ্বিতীয় দফায় ১ এপ্রিল ৩০টি, তৃতীয় দফায় ৬ এপ্রিল ৩১টি, চতুর্থ দফায় ১০ এপ্রিল ৪৪টি এবং পঞ্চম দফায় ১৭ এপ্রিল ৪৫টি আসনে ভোট নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন করোনা পরিস্থিতিতে নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল প্রচার চালাতে পারবে না। আর নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে বন্ধ হবে প্রচার।

আজকের এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। ৪৩টি নির্বাচনী এলাকার ভোটকেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজকের ভোটকে নির্বিঘ্ন করতে গোটা ভোটকেন্দ্র এলাকায় ৬৮৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশ থেকে নিয়োগ করা হয়েছে ২৫ হাজার ৪০৪ জন পুলিশ সদস্য।

গতকাল বুধবার রাতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই রাজ্যে মারা গেছেন ৫৮ জন। এর মধ্যে ১৩ জন কলকাতায় এবং ১৩ জন উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। আর সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কলকাতাসহ এই রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৬৮ জন। আর সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মারা গেছেন ১০ হাজার ৭১০ জন।

লড়াইয়ে একঝাঁক রাজনীতিক
আজ উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রাজনীতির মানুষই বেশি।। চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রার্থী মাত্র দুজন।

আজকের তৃণমূলের তারকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়, বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, স্বপন দেবনাথ, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, সাবেক মন্ত্রী আবদুল করিম চৌধুরী ও রুকবানুর রহমান। এই রুকবানুরের ছোট ভাই রিজওয়ানুর রহমানের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রতিবাদে ২০০৭ সালে বড় আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে রুকবানুরকে মনোনয়ন দেন মমতা। জিতেও যান তিনি। ২০১৬ সালের নির্বাচনেও জয়ী হন রুকবানুর। এবার রুকবানুর লড়ছেন নদীয়ার চাপড়া আসনে।

বিজেপির প্রার্থীরা হলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুকুল রায়, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা, শীভদ্র দত্ত, মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাশু রায়, ডা. অর্চনা মজুমদার, চন্দ্রমণি শুক্লা ও সাবেক মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়।
বাম দল সিপিএমের প্রার্থীদের মধ্যে আছেন উত্তর দমদমে তন্ময় ভট্টাচার্য এবং ফরোয়ার্ড ব্লকের চাকুলিয়া আসনের প্রার্থী আলী ইমরান।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন