default-image

করোনাভাইরাসের বিস্তারে ভারতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গেও আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকার মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে।

এর প্রতিবাদে স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন প্রখ্যাত চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম। তিনি তাঁর আবেদনে দাবি করেন, রাজ্য সরকার করোনা নিয়ে প্রকৃত তথ্য এড়িয়ে যাচ্ছে, লুকাচ্ছে। করোনা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও এবং ভারতের আইসিএমআর বা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চের গাইডলাইন মানছে না। নিজেদের মতো করে কাজ করছে। প্রকৃত তথ্য দিচ্ছে না। লুকোনো হচ্ছে প্রকৃত মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। তাই তাঁর আবেদন, অবিলম্বে করোনা নিয়ে প্রকৃত তথ্য রাজ্য সরকারকে জানানো হোক।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দীপংকর দত্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল বুধবার এই মামলার শুনানি হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলার শুনানি হয়। আদালত আবেদনকারীর অভিযোগ শুনে করোনা নিয়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং করোনা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কতটুকু বিস্তার লাভ করেছে, এর বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। ১৬ এপ্রিলের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে ই–মেইলে এই রিপোর্ট পেশ করতে হবে।

আবেদনকারীর পক্ষে এই মামলায় লড়েন কলকাতার আইনজীবী এবং কলকাতার সাবেক মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার শুধু যে তথ্য গোপন করছে তা নয়, করোনা দমনে অংশ নেওয়া চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে না। করোনা রোগীর টেস্ট আইসিএমআরের নির্দেশ মেনে করা হচ্ছে না। করোনা রোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আইসিএমআরের গাইডলাইন মেনে করা হচ্ছে না।

১ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কার্যালয় নবান্নে করোনা নিয়ে গড়া বিশেষজ্ঞ কমিটি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সেদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। কিন্তু এর দুই ঘণ্টা পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিব ফের আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করে জানান, এই রাজ্যে করোনায় মারা গেছে ৩ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ৩৭ জন। যদিও তখন আক্রান্তের সংখ্যা ৫১ হয়েছিল। রাজ্য সরকার বলেছিল, অন্য যাঁরা মারা গেছে, তারা করোনায় নয়, অন্য রোগে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, মমতা এখন করোনায় মৃত ও আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা লুকাচ্ছেন। তিনি এর আগেও ডেঙ্গুর সংক্রমণের সময় বলেছিলেন, ডেঙ্গুতে নয়, মৃত্যু হয়েছে অজানা রোগে। আর এবার বলছেন নিউমোনিয়া বা অন্য রোগে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0