বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাঞ্জাব বিধানসভার নির্বাচন আগামী বছর মার্চে। অর্থাৎ, ভোটের বাকি মাত্র পাঁচ মাস। এই অবস্থায় সিধুর বিদ্রোহের ফলে সরকারের পতন হলে নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে উঠবে। কংগ্রেস কীভাবে এই সমস্যার সামাল দেবে তার ইঙ্গিত নেই। সোনিয়া গান্ধী বা রাহুল-প্রিয়াঙ্কা এখনো পাঞ্জাব নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যাঁরা দলীয় অব্যবস্থার বিরুদ্ধে কিছুদিন ধরেই সরব, পূর্ণ সময়ের সভাপতি এবং সর্বস্তরে নির্বাচনের দাবি যাঁরা জানিয়ে আসছেন, সেই ‘জি-২৩’ নেতারা এই পরিস্থিতিতে নতুনভাবে সক্রিয় হয়েছেন।

সাবেক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বাল বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের দলে পূর্ণ সময়ের সভাপতি কেউ নেই। কাজেই আমরা জানি না দলের হয়ে কে বা কারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’ সিব্বালের মতো আর এক প্রবীণ নেতা গুলাম নবি আজাদ বুধবার অস্থায়ী কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে অবিলম্বে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছেন। কেন একের পর এক নেতা দল ছাড়ছেন তা বিবেচনা করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি বহুদিনের। অথচ কংগ্রেসে সাংগঠনিক নির্বাচনের তেমন কোনো লক্ষণ ও উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি। সভাপতির পদ গ্রহণে আগ্রহের কোনো বার্তাও রাহুল গান্ধী দেখাননি। সিধুকে তাঁরাই সমর্থন করেছিলেন। তাঁরাই বাধ্য করেছিলেন অমরিন্দর সিংকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে। আজ সেই সিধুই পাঞ্জাবে গান্ধী পরিবারকে পথে বসালেন!

পাঞ্জাবে দলীয় সংকট প্রসঙ্গে সিব্বাল বলেন, ‘পাঞ্জাব সীমান্তবর্তী রাজ্য। সেখানে কী যে ঘটছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। এর অর্থ কী? এতে তো পাকিস্তান ও আইএসআইয়েরই পোয়াবারো? পাঞ্জাবের ইতিহাস আমরা জানি। ওই রাজ্যে উগ্রপন্থীদের ইতিহাসও জানা। কংগ্রেসের উচিত এটুকু অন্তত নিশ্চিত করা যে কেউ দল ছাড়বেন না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দলের স্বার্থে কিছু দাবি জানিয়েছি। কিন্তু আমরা কেউ দল ছাড়ব না।’

জি-২৩ নেতারা দলত্যাগী না হলেও কী করতে চলেছেন সিধু? মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি সিধু-শিবিরের নেতা। সিধুর পরামর্শেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। বুধবার তিনি সিধুর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁকে আলোচনার দরজা খুলে রাখার অনুরোধ জানান। পরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দলের সভাপতি পরিবারের কর্তা। পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা বলা উচিত। তাঁকে বলেছি, কোনো অভিযোগ থাকলে বলুন। আলোচনার মধ্য দিয়ে ঠিক করা যাবে।’

কংগ্রেসের এই ডামাডোলের মধ্যেই বুধবার দুই দিনের সফরে রাজ্যে এলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সিধুর পদত্যাগের পর মঙ্গলবারেই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং বলেছিলেন, সিধু দলত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জোর জল্পনা, কংগ্রেস ছাড়লে সিধু আম আদমি পার্টিতেই যোগ দেবেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন