বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ফ্লাইটে পাঞ্জাবের ভাটিন্ডায় অবতরণ করেন। ভোটমুখী এই রাজ্যে কিছু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে তাঁর হেলিকপ্টারে করে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী জেলা ফিরোজপুর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি না পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ১১১ কিলোমিটার পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু গন্তব্যের ৩০ কিলোমিটার আগে এক উড়ালসড়কে তাঁর গাড়িবহর আটকে পড়ে। সেই স্থানে পাঞ্জাবের কৃষকেরা বিক্ষোভ-অবস্থান করছিলেন। প্রায় ২০ মিনিট আটকে থাকার পর নরেন্দ্র মোদি সফর বাতিল করে দিল্লি ফেরেন। দিল্লি ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী টিপ্পনী কেটে বলেন, ‘প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।’

সেই থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিবাদ চরমে উঠেছে। দুই পক্ষই একে অন্যকে গাফিলতির জন্য দায়ী করছে। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছে শাসক বিজেপি। পাঞ্জাবের শাসক দল কংগ্রেস বলেছে, ভোটের আগে রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করতে চাইছে বিজেপি। দুই সরকারই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রাজ্য পুলিশের কর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট এই হস্তক্ষেপ করলেন।

‘লইয়ার্স ভয়েস’ নামে এক বেসরকারি সংগঠনের করা মামলার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্ত। সংগঠনের আরজি, নিরাপত্তায় গাফিলতির জন্য দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া হোক। এর আগে গত শুক্রবার কেন্দ্র ও পাঞ্জাব সরকারকে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন তদন্তের কাজ সোমবার (গতকাল) পর্যন্ত স্থগিত রাখতে।

গতকালের শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ওই গাফিলতির দায় পুরোপুরি পাঞ্জাব সরকারের ওপর চাপিয়ে দেন। পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে পাল্টা বলা হয়, তাদের বক্তব্য না শুনেই কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের কর্মকর্তাদের অপরাধী গণ্য করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। পাঞ্জাব সরকারের পক্ষে বলা হয়, অপরাধীদের নিশ্চয় শাস্তি পাওয়া উচিত। কিন্তু তা তদন্ত ও বিচার শেষে। কেন্দ্র তদন্ত করলে তারা ন্যায়বিচার পাবে না। যেহেতু তারা আগেই অপরাধীদের চিহ্নিত করে ওই নোটিশ পাঠিয়েছে। পাঞ্জাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, এর সঙ্গে রাজনীতি জড়িত।

নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর গাফিলতি কেন্দ্র দেখবে না। অতএব নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। পাঞ্জাবের অ্যাডভোকেট জেনারেল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও প্রধান। মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই রাজ্যকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সে ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি কী করবে? এই কমিটির ওপর আমাদের কোনো ভরসা নেই।

প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনা, বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি হিমা কোহলির বেঞ্চ সলিসিটর জেনারেলকে বলেন, কেন্দ্র একদিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালককে অপরাধী গণ্য করেছে। এটা কী করে হতে পারে? এটা স্ববিরোধিতা ছাড়া অন্য কিছু নয়।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন