পার্লামেন্ট অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ব। সংসদের বাজেট অধিবেশনের আগের দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল রোববার এক সর্বদলীয় বৈঠকে এ কথা বলেন। আজ সোমবার থেকে হতে যাওয়া অধিবেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করতে চায় সরকার। এ কারণে তা খুবই উত্তপ্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর এনডিটিভির।
সংসদের উভয় কক্ষের সব দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে এ বৈঠকের আয়োজন করেন সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু। এতে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘দেশ অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাজেট অধিবেশনের দিকে তাকিয়ে আছে। সবার দায়িত্ব এর সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা।
ভারতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে রাজনৈতিক দলগুলোর তিক্ত পারস্পরিক বিরোধিতার কারণে কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। দৃশ্যত সে কথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বান।
২৮ ফেব্রুয়ারি মোদি সরকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে। এ অধিবেশন চলবে ৮ মে পর্যন্ত।
গতকালই এর আগে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী নাইডু কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ বৈঠককে তিনি ‘আন্তরিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কর্মসূচি অনুমোদনের জন্য মোদি সরকারের কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে, রাজ্যসভায় যেখানে এর সদস্যসংখ্যা কম। এ অধিবেশনে সরকার বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশ বিল আকারে তুলে পাস করাতে চায়। এর মধ্যে আছে বিমা খাতে বিদেশি বিনিয়োগের হার, কয়লাখনির নিলাম, জমি অধিগ্রহণের বিধি পরিবর্তন। জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি ইতিমধ্যে কৃষক সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। গান্ধীবাদী সমাজকর্মী আন্না হাজারে এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশটির বিরুদ্ধে নয়াদিল্লিতে আজ থেকে দুদিন বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। এ দিকে ইঙ্গিত করে মোদি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে সচেতন যে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টিতে কৃষকেরা যুক্ত বলে এর মধ্যে আবেগ জড়িয়ে আছে। আমাদের উচিত অন্যায্য রাজনীতিকরণ না করে আন্তরিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা।’
পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষÿরাজ্যসভায় সদস্য কম হওয়ার কারণে বিজেপি সরকার সাত মাসের মেয়াদে ১০টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। রাজ্যসভায় সবচেয়ে বেশি আসন বিরোধী দল কংগ্রেসের। কংগ্রেস অন্যদের সঙ্গে নিয়ে বেশ কয়েকটি আইন পাসের উদ্যোগ আটকে দেয়।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন